টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “আইনমন্ত্রী যাই বলুক না কেন আমরা যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি তা শতভাগ স্বচ্ছ। আমাদের প্রতিবেদনে পার্লামেন্ট সদস্যদের ইতিবাচক দিকগুলো যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি নেতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। নেতিবাচক কর্মকান্ডের সমাধানকল্পে বেশ কিছু সুপারিশও আমরা করেছি। সুতরাং এই প্রতিবেদনকে পক্ষপাতমূলক বলার কোনো সুযোগ নেই।
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক মঙ্গলবার টিআইবি’র প্রতিবেদনকে পক্ষপাতমূলক বলে মন্তব্য করার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ড. ইফতেখারুজ্জামান টাইম নিউজবিডিকে এসব কথা বলেন।
এরআগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নবম জাতীয় সংসদ কার্যক্রমের ওপর পরিচালিত ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় সংসদের পর্যালোচনামূলক টিআইবির ‘নবম পার্লামেন্ট ওয়াচ’ প্রতিবেদন পক্ষপাতমূলক।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রনালয়ে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ব্যক্তিগত জায়গা থেকে বিরুপ মন্তব্য করতেই পারেন। মাননীয় মন্ত্রী মহাদয়ের দ্বিমত থাকতেই পারে। তবে এক্ষেত্রে এধরণের মন্তব্য কতটা সমীচীন তা বিবেচ্য বিষয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, নিজস্ব ভাবনা থেকে অনেক কিছু বলা যায়। আমরা মনে করতে চাই এই ধরণের মন্তব্য মন্ত্রী মহাদয়ের ব্যক্তিগত অভিমত। সরকারি অভিমত নয়।
তিনি দাবি করে বলেন, ‘টিআইবি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সে ব্যাপারে আমরা আমাদের জায়গায় অনঢ়। আমি পূর্ণ আস্থার জায়গা থেকে বলছি প্রতিবেদন সম্পর্কে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ করার কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, আমি জানি না তিনি (আইনমন্ত্রী) কোন প্রেক্ষিতে এই প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলেছেন! তবে কখনোই আমরা আমাদের প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট মনে করি না। আমরা সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছি।
তিনি বলেন, আমরা শুধু মন্ত্রী ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের নয় বিরোধীদলসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যদেরও ইতিবাচক-নেতিবাচক কর্মকান্ডের বিষয় তুলে ধরেছি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদ ও সংসদ সদস্যদের ঘাটতিগুলো তুলে ধরেছি। সংসদ ও সংসদ সদস্যরা কিভাবে কাজ করতে পারেন এবং কিভাবে সে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব সে বিষয়েও বেশ কিছু সুপারিশ আমরা তুলে ধরেছি।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত কারণে সংসদের কোরাম শুরু হতে দেরি হওয়ার বিষয়েও আমরা সমালোচনা করেছি। বিরোধী দলের সংসদ বর্জনের যে সংস্কৃতি এবং বিরোধীদলীয় নেতার সংসদে যে মাত্র তিন শতাংশ অংশগ্রহণ ছিল সে সম্পর্কেও আমরা বিষদ সমালোচনা করেছি।
বাস্তবতার কারণে যদি প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে ইতিবাচক দিকগুলোর চাইতে নেতিবাচক দিকগুলো ভারি হয় সেক্ষেত্রে আসলে আমাদের করার কিছু থাকে না। আমাদের নিজস্ব কোনো ধারণা নেই। সরাসরি সংসদীয় কার্যক্রমের ভিত্তিতে আমরা এই প্রতিবেদন তৈরি করেছি। এখানে নতুন যোগ করারও কিছু নেই লুকানোরও কিছু নেই।
এই প্রতিবেদন তৈরিতে সংসদ সদস্যরা সহযোগীতা করেছেন, সংসদ সচিবালয় সহযোগীতা করেছে, পত্র-পত্রিকা থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদন তৈরিতে ২২ জনের টিম কাজ করেছে। নিজে তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঙ্গত কারণে প্রতিবেদন সম্পর্কে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ করার কোনো সুযোগ নেই।
[b]ঢাকা, জেইউ, ১৮ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]