প্রধান বিরোধীজোট অংশ না নেয়ায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন একতরফা ও ভোটারবিহীন হলেও উপজেলা নির্বাচনে লড়াই হবে জমজমাট। এ নির্বাচনে ছাড় দিতে নারাজ বড় দুই জোট। তাই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত প্রায় সব দলই এ নির্বাচনে একক প্রার্থী দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট সদ্য সমাপ্ত দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও উপজেলা নির্বাচনে ছাড় না দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একইভাবে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী মহাজোটও আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে শক্ত অবস্থান নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব মিলিয়ে এ নির্বাচনে উভয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন দুই দফায় ২১৫টি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী আমেজ। নির্বাচনকে ঘিরে সাজসাজ রব উঠেছে সারা দেশেই।
প্রথম দফা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল গতকাল শনিবার। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এ সময়ের মধ্যে তিনটি পদে এক হাজার ৭২৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬৯০, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৫৬ এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৮০ প্রার্থী।
এদের মধ্যে সিলেট জেলার ৬টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৪৪ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। রংপুরের তিনটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২১। মাদারীপুরের কালকিনিতে চারজন।বরিশালের গৌরনদীতে ৬ জন।পাবনার সাঁথিয়ার ১০ জন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ৫ জন। মেহেরপুরে ২ জন।
এছাড়া ভোলার লালমোহনে ১১ জন,দিনাজপুরের কাহারোলে ৭ জন ও খানসামায় ৫ জন,কুষ্টিয়া সদরে ৮ জন এবং ভেড়ামারায় ৭ জন,রাজবাড়ী সদর উপজেলায় তিনজন,পাংশায় সাতজন,বালিয়াকান্দিতে চারজন,সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ৭জন,রায়গঞ্জ উপজেলায় ছয়জন,কাজিপুরে ৫জন,উল্লাপাড়ায় ৯জন,কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে ৬ জন,ফুলবাড়ীতে ৭জন এবং উলিপুরে ১১ জন,গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ১৬ জন,ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় সাতজন,শৈলকুপায় সাতজন,কালীগঞ্জে ছয়জন ও কোটচাঁদপুরে ছয়জন।
মানিকগঞ্জের ৪টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২৭জন,গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ৭ জন এবং কাশিয়ানীতে ৬ জন,নড়াইলে ১০ জন,শরীয়তপুরের দরগঞ্জ,গোসাইরহাট,ডামুড্যা ও জাজিরায় চেয়ারম্যান পদে ২০ জন। হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৩জন,বাহুবলে ৭ জন,খাগড়াছড়ি সদর,রামগড়,মাটিরাঙ্গা,মহালছড়ি,পানছড়ি,মানিকছড়িতে ৩৭জন,কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৭ জন,বাজিতপুরে ৭ জন,নিকলীতে ৭ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন।
অনুষ্ঠেয় ৯৮টির মধ্যে ৬৬টি উপজেলার প্রার্থীদের দলীয় পরিচয় জানা গেছে। এসব উপজেলায় ৫০৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে অন্তত আওয়ামী লীগের ২০৮,বিএনপির ১৬৪,জাতীয় পার্টি ১৫ ও জামায়াতে ইসলামীর ২৭ জন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি,জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ),বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও বিপুলসংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এ দিকে এ নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে রাখা হচ্ছে সেনাবাহিনী,বিজিবি,র্যা ব ও পুলিশ। উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কঠোর অবস্থানে থাকবে।
এবার সারা দেশে ছয় ধাপে উপজেলার ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রথম ধাপ ১৯ ফেব্রুয়ারি,দ্বিতীয় ধাপ ২৭ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপ ১৫ মার্চ, চতুর্থ ধাপ ২৫ মার্চ,পঞ্চম ধাপ ৩১ মার্চ ও ষষ্ঠ ধাপের উপজেলা নির্বাচন ৩ মে হওয়ার কথা রয়েছে।
সর্বমোট ৪৮৭ উপজেলা পরিষদের মধ্যে ১৯ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ১০২টিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও পরে ৪ উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করায় ৯৮ উপজেলায় ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ হবে।
তফসিল অনুযায়ী প্রথম ধাপ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৫ জানুয়ারি,যাচাই-বাছাই ২৭ জানুয়ারি,মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩ ফেব্রুয়ারি।
চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৪৮৭ উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ২৯৪টি,আর ভোট কক্ষ ২ লাখ ৩ হাজার ৭৬৩টি। ৯ কোটি ১৯ লাখ ভোটারের মধ্যে এসব উপজেলায় প্রায় ৮ কোটি ভোটার থাকবে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘটে যাওয়া ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আগাম এ প্রস্তুতি নিয়েছে কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় ভোট গ্রহণের আগে ও পরে মোট পাঁচ দিনের জন্য (যাতায়াত সময় ছাড়া) সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা ও নৌ) সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ।
গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় মোতায়েন করা হবে অতিরিক্ত পুলিশ,অঙ্গীভূত আনসার ও গ্রামপুলিশ। সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ২১ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৫ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
এছাড়াও উপকূলবর্তী জেলা এবং বিশেষ এলাকাগুলোর (পার্বত্য এলাকা,দ্বীপাঞ্চল ও হাওর) সাধারণ কেন্দ্রে পুলিশ,অঙ্গীভূত আনসার ও চৌকিদার-দফাদারসহ ২৫ জন ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে।
এছাড়া সীমান্তবর্তী উপজেলায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা পাঁচ দিন,র্যা ব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান সদস্যরাও সাত দিন মাঠে থাকবেন।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দশম সংসদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন,অনেক সহিংসতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমাদের লোকজন,মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের কাছ থেকে খবরাখবর নিয়ে গতবারের মতো এবারও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এক দিনে শেষ করা তৃতীয় উপজেলা নির্বাচনে ২০০৯ সালে সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হয়েছিল উল্লেখ করে সিইসি জানান,সশস্ত্র বাহিনী মাঠে কত দিন থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আলোচনা করে ইসিকে জানাবেন। এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অন্তত পাঁচ দিন মাঠে রাখার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন সিইসি।
এ নির্বাচনে সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্র ৪২ হাজারের বেশি ধরা হয়েছে। ভোট কক্ষ ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ। এছাড়া ভোটার বিবেচনায় ৮ কোটির কিছু বেশি ভোটারের জন্য তিন পদের প্রায় ২৪ কোটি ব্যালট পেপার ছাপানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে তা ছাপানো হবে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
[b]ঢাকা, এএ, ২৬ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]
শ্রেণীহীন
প্রস্তুত উভয় জোট: লড়াই হবে উপজেলায়
প্রধান বিরোধীজোট অংশ না নেয়ায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন একতরফা ও ভোটারবিহীন হলেও উপজেলা নির্বাচনে লড়াই হবে জমজমাট। এ নির্বাচনে ছাড় দিতে নারাজ বড় দুই জোট। তাই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত প্রায় সব দলই এ





