পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে মারমা সম্প্রদায়ের উদ্যোগে সাংগ্রাই জল উৎসবের আয়োজন শুরু হয়েছে। বৃহত্তম মারমা পল্লী চিৎমরম (চিংম্রং) বৌদ্ধ বিহার, চন্দ্রঘোনার নারাণগিরি, ডংছড়ি, বাঙ্গালহালিয়া ও রাজস্থলীতে সাংগ্রাই জল উৎসবে মারমা তরুণ-তরুণীরা মাতোয়ারা হবেন।
আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে রাঙ্গামাটির পার্বত্য এলাকায় সাংগ্রাই জল উৎসব শুরু হবে। তবে মূল উৎসব কেন্দ্রীয়ভাবে কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরমে বৌদ্ধ বিহার চত্বরে ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।
চিৎমরম সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও মারমা সংস্কৃতিক সংস্থার (মাসস) সভাপতি প্রকৌশলী অংশুছাইন চৌধুরী জানান, ১৬ এপ্রিল কাপ্তাইয়ে চিৎমরমে সাংগ্রাই জল উৎসবের মুল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, বিশেষ অতিথি থাকবেন সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু। এ ছাড়া রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রাঙ্গামাটি সেনা রিজিয়ন কমান্ডারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।
উৎসবে দিনভর মঞ্চ মাতাবেন সংগীত আইডল বান্দরবানের মং।
মাসসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অংশুছাইন চৌধুরী আরো জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন করলেও তাদের লক্ষ্য কিন্তু পুরাতন বর্ষের গ্লানি মুছে ফেলা এবং নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া। বর্ণিল আয়োজনে সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপনের জন্য কাপ্তাইয়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পল্লীতে প্রস্তুতি চলছে। কাপ্তাই চিৎমরম ছাড়াও উপজেলার রাইখালী, বাঙ্গালহালিয়া, নারাণগিরি এবং কাউখালীতে সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন করা হবে।
আয়োজকরা জানান, মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব সাংগ্রাই-এ অংশ নিতে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা থেকে মারমা সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ জড়ো হবেন কাপ্তাই, চন্দ্রঘোনা ও রাজস্থলীতে। উৎসবে তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যগত পানি খেলায় মেতে উঠবেন। প্রতিযোগিতামুলক একে-অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে তারা আনন্দে মেতে থাকবেন পুরো দিন। একই সময়ে উৎসব মঞ্চে চলবে মারমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির নাচ ও গানের অনুষ্ঠান। এখানে তরুণ-তরুণীদের পরিবেশনায় জাই, পাংখুং, কাপ্যাং, রোদুক, চাগায়াং, লোন্ডিং, জুম, রোরাং নৃত্য পরিবেশন করা হবে।
[b]ঢাকা, ১১ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ[/b]