ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আগামীকাল বসন্ত। মানে ফাল্গুনের প্রথম দিন। বসন্ত ঋতুরাজ। ষড়ঋতুর মধ্যে প্রকৃতির রাজ সিংহাসন তার জন্য নির্ধারিত। বসন্তের আগমন শীত শেষে।
শীতের স্থবিরতা-জড়তা কাটিয়ে উত্তুরে হাওয়ার বদলে আসে দখিনা মলয়। বসন্তের আগমন বার্তা ঘোষিত হয় এর মধ্যে। এর সঙ্গে শীতের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আসে কোকিল। সে এসে তার কুহু ডাকের ভেতর দিয়ে যেন তারস্বরে শীতের পূর্ণ অবলম্ব এবং ঋতুরাজের আগমন ঘোষণা করে দেয় সবখানে। শুরু হয় বসন্তের অভিষেক।
আগামীকাল সেই দিন। গাছে গাছে নতুন পাতা জন্ম নেবে। ফুল ফুটবে গাছে গাছে। প্রকৃতি সাজবে ফুলের সাজে, 'আহা আজি এ বসন্ত কতো ফুল ফুটে, কতো বাঁশি বাজে, কতো পাখি গায় ....।'
কাল ফাল্গুন শুরু। কবির কথায় : ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল/ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল। চঞ্চল মৌমাছি গুঞ্জরি গায়/ বেণুবনে মর্মরে দক্ষিণ বায়।' এটা আমাদের বাংলাদেশের রূপ। আম ফলের রাজা। আমগাছ আমাদের জাতীয় গাছ। এখন দেখা যাবে এখানে-ওখানে আম গাছে 'ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল।' আমরা গাই : 'ওমা ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে' এ বাংলাদেশের রূপ। এ সুজলা সুফলা শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশের প্রকৃতি। আমরা এ প্রকৃতি নিয়ে গর্ব করি। এই প্রকৃতির যত্ন করব আমরা।
এ শহরে তুলনামূলকভাবে গাছপালা কম ফুলগাছাও কম। তবু যা আছে সেগুলোই নতুন পত্র পল্ববে সাজবে। যে কটি ফুলগাছ এখানে-ওখানে আছে তাতে ফুল ফুটবে। যদি নাও ফোটে আজ তবু ও 'আজি বসনত্ম জাগ্রত দ্বারে। তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে/করো না বিড়ম্বিত তারে।' বসন্তকে বরণ করা হচ্ছে আজ। প্রকৃতির যাই আমাদের অবশিষ্ট আছে সেটাই সাজবে আজ। ফুল এখন এই বসনত্মে ফুটবে গাছ কম থাক আর বেশি যাই থাক। তবে গাছ থাক না থাক, 'ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত।'
[b]ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই
[/b]