বিভিন্নভাবে উৎকোচ দাবি, চাঁদাবাজি ও আটক-বাণিজ্যের অভিযোগে আরও ৭৪ পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের কাঠগড়ায় আছেন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত।
অভিযুক্ত কর্মকর্তারা আটক বাণিজ্যের নামে কমপক্ষে ২৯০ জনের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৪ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
নথি সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে গ্রেফতার বাণিজ্যকে। বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেফতার এবং টাকার বিনিময়ে ছেঁড়ে দেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে এমন দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। শিগগিরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিভিন্ন জেলায় পুলিশ-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক 'গ্রেফতারের পর অর্থের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়া প্রসঙ্গে বিশেষ প্রতিবেদন' শিরোনামে নথিটি পাঠানো হয়েছে।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত/দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে,তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানাতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছে।
প্রতিবেদনে টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নাম, পদবি ও কর্মস্থল, টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা বা দলীয় পদ-পরিচয়, মধ্যস্থতাকারীর নাম-পরিচয় এবং টাকার অঙ্ক তুলে ধরা হয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিলম্ব না করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি এর আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তাও আমরা জানতে চাই।
অভিযুক্ত পুলিশদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের কোনো বিষয় নেই, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তবে এ ব্যাপারে স্টাফ অফিসার টু আইজিপি (পুলিশ হেডকোয়ার্টার) মুনতাছির রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাইম নিউজবিডিকে বলেন, আমাদের কাছে এখনো এ ধরনের কোনো নথি এসে পৌঁছেনি। তাই আগাম কিছু মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আটক-বাণিজ্যের জন্য ১০১ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর তাঁদের মধ্যে মাত্র ২৯ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। সদর দপ্তর দাবি করেছে, প্রাথমিক তদন্তে শুধু তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
এবারের অভিযুক্ত যারা
রাজশাহী: বোয়ালিয়া মডেল থানার তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো.নজরুল ইসলাম; সার্জেন্ট হাসান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ; মো. রেজাউল, রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই), বোয়ালিয়া মডেল থানা।
নাটোর: সদর থানার পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম; এসআই মো. আলাউদ্দিন ও কনস্টেবল মো. ফারুক হোসেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান, এসআই মো. রজব, এসআই মো. শাহীন, এসআই মো. সাইদুর রহমান, এসআই মো. আইনুদ্দিন।
সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ সদর থানার এসআই বদিউজ্জামান, এসআই আবু সাদাত, এসআই বারিক, এসআই ফারুক হোসেন, এসআই শরিফুল ইসলাম।
চট্টগ্রাম: ইমতিয়াজ ভূঁইয়া, পরিদর্শক, মিরসরাই থানা; এএসআই আবদুল কাদির, কোতোয়ালি থানা; এসআই ফজর বিশ্বাস; এসআই মো. আলী; কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসি (তদন্ত) সুদীপ কুমার দাশ; ওসি মহিউদ্দিন সেলিম; এসআই হারুনুর রশিদ; এসআই উৎপল বড়ুয়া; পাঁচলাইশ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস; চান্দগাঁও থানার ওসি বাবুল ভৌমিক; পাঁচলাইশ থানার ওসি (তদন্ত) আজিজ আহম্মদ; বাকলিয়া থানার সাবেক ওসি নুরুল আবছার; বাকলিয়া থানার ওসি (তদন্ত); পাঁচলাইশ থানার এসআই জাহাঙ্গীর।
চাঁদপুর: আক্তার হোসেন, এসআই, ফরিদগঞ্জ থানা; দেলোয়ার হোসেন, এএসআই, শাহরাস্তি থানা; শামিম আহমেদ, এসআই, চাঁদপুর সদর; মোরশেদ আলম, এএসআই, ফরিদপুর থানা; জাহাঙ্গীর আলম, এসআই (ডিবি) চাঁদপুর সদর; আবু আবদুল্লাহ, এসআই, ফরিদগঞ্জ থানা; এসআই (ডিবি) জাহাঙ্গীর, চাঁদপুর সদর।
কুমিল্লা: মো. সোহেল, এসআই, ডিবি; মো. জসিম উদ্দিন, এসআই, কোতোয়ালি; মো. হারুন, এসআই কোতোয়ালি; মো. ইকবাল, এসআই, ডিবি; সালাউদ্দিন, এসআই, কোতোয়ালি; ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে সঙ্গের ফোর্স, কোতোয়ালি; মো. শওকত হোসেন, ওসি, সদর দক্ষিণ; নাসির পাটোয়ারী, এএসআই এবং মনির, এএসআই, বুড়িচং থানা; মো. নাজমুল, এসআই, বুড়িচং থানা; মো. মনির, এসআই, বুড়িচং থানা; হারুনুর রশিদ, ওসি, মনোহরগঞ্জ থানা; মো. কামাল, এসআই, দেবীদ্বার থানা৷
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: এএসআই মেহেদী, কনস্টেবল কামাল (তৎকালীন ডিবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) বর্তমানে সদর থানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত; এএসআই জাহাঙ্গীর (তৎকালীন ডিবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত, বর্তমানে নারী নির্যাতন মামলায় জেলহাজতে); এসআই জাহাঙ্গীর আলম, ক্যাম্প ইনচার্জ চাতলপাড়, নাসিরনগর।
নোয়াখালী: সদর থানার ওসি মোশাররফ হোসেন তরফদার, এসআই আবদুল্লাহ, এএসআই নজরুল, এসআই হাবিব, এসআই রহিম এবং সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন রনি, সদর থানার টিএসআই জহির।
ফেনী: সোনাগাজী উপজেলার আদর্শগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত এএসআই খাজু মিয়া, ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন এবং এসআই সালাম।
লক্ষ্মীপুর: এসআই মজিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর সদর থানা; বর্তমান ওসি মোক্তার হোসেন, রামগতি থানা; এএসআই মামুন (চন্দ্রগঞ্জ ফাঁড়ি), সদর৷
মৌলভীবাজার: মো. আনোয়ার মিয়া, এসআই, মৌলভীবাজার মডেল থানা; রিপন চন্দ্র ঘোষ ও কাওসার আহমেদ, এসআই, বড়লেখা থানা; আনজির আহমেদ ও আকরাম হোসেন, এসআই, কমলগঞ্জ থানা; মো. জাহাঙ্গীর সর্দার, এসআই, শ্রীমঙ্গল থানা।
[b]ঢাকা, জেইউ, ১৯ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ [/b]
শ্রেণীহীন
আরও ৭৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
বিভিন্নভাবে উৎকোচ দাবি, চাঁদাবাজি ও আটক-বাণিজ্যের অভিযোগে আরও ৭৪ পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের কাঠগড়ায় আছেন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত





