চলমান উপজেলা নির্বাচনে সংঘাত সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে (সফররত) জরুরি ভিত্তিতে একটি চিঠি (ই-মেইল) পাঠিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ।
ডিসি, এসপি, পুলিশ কমিশনার, রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশ্যে তিনি এই চিঠি (ই-মেইল) পাঠিয়েছেন, বলে কমশিন সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত দুই ধাপে ভোটকেন্দ্র দখলসহ ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা পত্র-পত্রকিায় প্রকাশিত হলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে এবং এই সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দেশের বাইরে অবস্থান নিয়েও ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরই পটভূমিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী সিইসি তার এই উদ্বেগের কথা জানালেন।
আগামীকাল রোববার চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে চতুর্থ ধাপে ৪৩ জেলার ৯১ উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ( ইসি) সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন সুষ্ঠু করার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, এবার যাতে সহিংসতামুক্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় সে লক্ষ্যে সব ধরনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। চতুর্থ ধাপের ৯৩টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ১৮৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩৮৯ জন, ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪৮৫ জন এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩১২ জন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার ৯১ উপজেলায় মোট ভোটার ১ কোটি ৪৩ লাখ ২৫ হাজার ৬৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭১ লাখ ৩৯ হাজার ১০২ জন, নারী ভোটার ৭১ লাখ ৮৬ হাজার ৫৪২ জন।
নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শুরু করেছে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা। রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তারা প্রয়োজনীয় সবকিছু করবেন।
এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় ১ জন বিচারিক ও ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। এ ছাড়া প্রতি কেন্দ্রে একজন পুলিশ (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার একজন (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার ১০ জন (নারী-৪, পুরুষ-৬ জন) এবং আনসার একজন (লাঠিসহ) ও গ্রামপুলিশ একজন করে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন।
নির্বাচন কমিশন চতুর্থ দফায় ৯৩টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করলেও দুই উপজেলায় ভোট স্থগিত করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার কারণে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও শেরপুরের সদর উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
এ দফায় ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৬ হাজার ১০৮টি, ভোটকক্ষ ৩৮ হাজার ৬৪৪টি। প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকেন্দে একজন করে ৬ হাজার ১০৮ জন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকক্ষের জন্য এক জন করে মোট ৩৮ হাজার ৬৪৪ জন এবং পোলিং অফিসারের সংখ্যা ৭৭ হাজার ২৮৮ জন।
চতুর্থ ধাপে যে ৯১টি উপজেলার নির্বাচন হবে সেগুলো হলো- ঢাকার ধামরাই; ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ; দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ ও ফুলবাড়ী; জয়পুরহাটের পাঁচবিবি; বগুড়ার গাবতলী; রাজশাহীর তানোর; পুটিয়া ও বাগমারা; নাটোরের বড়াইগ্রাম; সিরাগঞ্জের চৌহালী; পাবনার ঈশ্বরদী ও ফরিদপুর; নড়াইল সদর; কুষ্টিয়ার দৌলতপুর;
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর; ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু; যশোরের সদর ও কেশবপুর; বাগেরহাটের চিতলমারী ও মোল্লাহাট; খুলনার ফুলতলা; তেরখাদা; রূপসা; বটিয়াঘাটা ও দাকোপ; সাতক্ষীরার কলারোয়া; বরগুনার বেতাগী; পটুয়াখালীর সদর; গলাচিপা; মির্জাগঞ্জ; বাউফল ও দুমকী; ভোলার তজুমুদ্দিন; মনপুরা ও দৌলতখান; বরিশালের আগৈলঝারা; উজিরপুর ও বানারীপাড়া;
ঝালকাঠির সদর; কাঠালিয়া; রাজাপুর ও নলছিটি; পিরোজপুরের সদর; জিয়ানগর; ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়া; টাঙ্গাইলের কালিহাতি; ভুয়াপুর; নাগরপুর ও মধুপুর; শেরপুরের নালিতাবাড়ী; ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট; নেত্রকোনার মদন; কিশোরগঞ্জের ভৈরব; ইটনা; কটিয়াদি; মিঠামইন ও তাড়াইল; মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া; গাজীপুরের কালিয়াকৈর; সুনামগঞ্জের শাল্লা ও ধর্মপাশা; সিলেটের সদর ও কানাইঘাট;
মৌলভীবাজারের সদর; কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল; হবিগঞ্জের সদর; আজমেরীগঞ্জ; লাখাই ও নবীগঞ্জ; ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আখাউড়া ও নাসিরনগর; কুমিল্লার মেঘনা ও বরুড়া; চাঁদপুরের শাহরাস্তি; ফেনীর সোনাগাজী ও ফুলগাজী; নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ; চট্টগ্রামের বাঁশখালী; আনোয়ারা; রাউজান; ফটিকছড়ি; রাঙ্গুনিয়া; বোয়ালখালী ও সাতকানিয়া; কক্সবাজারের রামু ও কুতুবদিয়া; রাঙ্গামাটির জুড়াছড়ি এবং বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি।
[b]ঢাকা, এএ, ২২ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]