অবশেষে জামায়াত নেতা নিজামী ও বিএনপি নেতা বাবর কয়েদির পোষাক গায়ে নিলেন। এ সময় খুবই সাদা মাটা মন ছিল ওই দুই নেতার। তারা অনেকটাই স্বাভাবিক আচরণও করেন। সালাম-কালাম করেন সবার সঙ্গে।
শুক্রবার সকালটি ছিল তাঁদের জন্য অন্য রকম। আগের দিনও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিভিশন ওয়ার্ডের বন্দি হিসেবে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু শুক্রবার সকালে তাঁদের কারারক্ষীরা দেখেছেন নতুন পোশাকে। কয়েদির পোশাক গায়ে কনডেম সেলে কিছুক্ষণ পায়চারি করেছেন তাঁরা। পরে নিজেদের কক্ষে চলে গেছেন। সকালে তাঁরা সবজি দিয়ে রুটি খেয়েছেন। দুপুরে ডাল, সবজি, ভাত এবং রাতে সাদা ভাতের সঙ্গে ডাল, সবজি ও মাছ পেয়েছেন। তাঁদের জন্য দৈনিক খাবার বাবদ বরাদ্দ আছে ৪৮ টাকা ৮২ পয়সা করে। এই বরাদ্দে সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবার খেতে হবে তাঁদের।
কয়েদির পোশাকে সাধারণ বন্দির মতোই কনডেম সেলের নতুন এই বাসিন্দারা হলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী এবং বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এই তালিকায় আরো আছেন মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিমসহ মোট আটজন। অন্য চারজন আসামি ডিভিশনপ্রাপ্ত ছিলেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ছগীর মিয়া বলেন, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামিদের মধ্যে আটজন ডিভিশনপ্রাপ্ত ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণার পর বিধিমোতাবেক ডিভিশন সুবিধা বাতিল হয়ে যায়। আর রাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশের সাজা পরোয়ানা কারাগারে পৌঁছার পর তাঁদের সাধারণ বন্দি হিসেবে নিয়ম অনুযায়ী কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক সূত্র জানায়, রাতে কনডেম সেলে নেওয়ার পরপরই নিজামী, বাবরসহ সব আসামিকে কয়েদির পোশাক, থালা, গ্লাস, ছাদর দেওয়া হয়। কারারক্ষীরা জানিয়েছেন, সকালে কনডেম সেলের ভেতর কয়েদির পোশাকে নিজামী ও বাবরকে কিছুক্ষণ পায়চারি করতে দেখেছেন তাঁরা। এ ছাড়া দুজন গোসলও করেছেন একই স্থানে গিয়ে। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিমর্ষ দেখা গেছে। অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন কয়েকজন। সকালে নতুন এই কয়েদিদের রুটির সঙ্গে সবজি খেতে দেওয়া হয়। দুপুরে দেওয়া হয় সাদা ভাতের সঙ্গে ডাল ও সবজি। আর রাতে সাদা ভাত, ডাল ও সবজির সঙ্গে ছিল মাছ।
কারাগারের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য বন্দিদের প্রতিদিনের খাবার খরচের একটি তালিকা আছে। তালিকা মতে প্রতিজন হাজতির একদিনের খাবারের জন্য বরাদ্দ ৪৫ টাকা ২ পয়সা। আর সাজাপ্রাপ্ত বন্দির জন্য বরাদ্দ ৪৮ টাকা ৮২ পয়সা। সাধারণ কয়েদি হিসেবে নিজামী-বাবরের জন্যও একই বরাদ্দ। বাড়তি কোনো সুবিধা নেই। বরাদ্দের এই টাকায় কয়েদিদের খাবার দেওয়া হয়।
এদিকে কারাগার সূত্র জানিয়েছে, আজ শনিবার সকালেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন মতিউর রহমান নিজামী, লুৎফুজ্জামান বাবর, রেজ্জাকুল হায়দার ও আবদুর রহিম। তাঁদের বিরুদ্ধে ঢাকার অন্য আদালতে বিচারাধীন মামলা থাকায় ঢাকায় পাঠানো হবে। অন্য আসামিরা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকবেন।
ঢাকা, এএম, ২ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএমএ
শ্রেণীহীন
অবশেষে কয়েদির পোশাক গায়ে নিলেন নিজামী-বাবর
অবশেষে জামায়াত নেতা নিজামী ও বিএনপি নেতা বাবর কয়েদির পোশাক গায়ে নিলেন। এ সময় খুবই সাদা মাটা মন ছিল ওই দুই নেতার। তারা অনেকটাই স্বাভাবিক আচরণও করেন। সালাম-কালাম করেন সবার সঙ্গে।





