চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পাঁচ দফায় কোথাও কোন অনিয়ম ও সহিংসতা হয়নি। এছাড়া কোন কেন্দ্রে জাল ভোট, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও ভোট কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনাও ঘটেনি। এমনকি স্বাধীনতার পর এরকম সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন হয়নি।
পাঁচ দফা উপজেলা নির্বাচন নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের পাঁচ দফায় ব্যাপক সহিংসতা ও ভোট কেন্দ্র দখল হয়েছে বলে উল্লেখ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম একাধিক রিপোর্ট প্রকাশ করে।
এ রিপোর্ট যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশন ৬০টি জেলার বিভিন্ন উপজেলার তদন্তের জন্য রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
এ কমিটি গতকাল (মঙ্গলবার) এ রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছন। আর তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, ব্যাপক সহিংসতা ও জাল ভোট এবং ভোট কেন্দ্র দখলের মধ্য দিয়ে পাঁচ দফা নির্বাচন শেষে গণমাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করলে তিন সপ্তাহের সময় দিয়ে গত ৭ এপ্রিল এসব ঘটনা তদন্তের জন্য কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে রিটানিং কমকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট পাঠান। রিপোর্টে কোনো উপজেলায় কোনো অনিয়ম ও সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তারা উল্লেখ হয়েছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সারা দেশে ৪৫৮টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিয়েছেন। এ সময়ের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট সঠিক নয়।
এদিকে বরিশাল, ঝালকাঠী ও বরগুনা জেলার রিটানিং কর্মকর্তারা রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, এ জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। পাশাপাশি কোন উপজেলায় জাল ভোটের ঘটনা ঘটেনি। এমনকি স্বাধীনতার পর এরকম সুন্দর নির্বাচন আর হয়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন অফিসার ও তদন্ত কর্মকর্তা তার পাঠানো রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, টাঙ্গাইল জেলার উপজেলা নির্বাচনে 'সহিংসতা কমার লক্ষণ নেই' শিরোনামে প্রথম আলোয় প্রকাশিত রিপোর্টের সত্যতা খুজে পাওয়া যায়নি। এ জেলায় উপজেলা নির্বাচনে কোথাও কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। গোপালপুর উপজেলায় সহিংসতার পূর্ব লণ থাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল।
ঠাকুরগাঁও রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, এ জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। পাশাপাশি ব্রাহ্মবাড়িয়ার কোন উপজেলায় জাল ভোটের ঘটনা ঘটেনি বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।
যশোর জেলা রিটানিং কর্মকর্তা তারেক আহমেদ তার রিপোর্টে বলেছেন, নির্বাচনে কোথাও কোনো কারচুপির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন, বিগত ২৭ মার্চ দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত 'নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদে হরতাল পালিত' রিপোর্ট সঠিক নয়। কারণ কেশবপুর উপজেলা নির্বাচনে ভোটাররা পছন্দমতো প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। বিএনপির ডাকা হরতালেও এলাকায় কোনো প্রভাব পড়েনি।
এদিকে গাজীপুরের রিটানিং কর্মকর্তা তার পাঠানো রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, কালিয়কৈরসহ কোন উপজেলায় নির্বাচনে অনিয়ম, জাল ভোট ও কেন্দ্র দখলের কোনো ঘটনা ঘটেনি । এছাড়া ফেনীর সদর, পরশুরাম, ফুলগাজী, সোনাগাজী উপজেলায় ব্যাপক কারচুপির ঘটনা ঘটেলেও রিপোর্টে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে বলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রিপোর্টে বলা হয়েছে।
এদিকে নোয়াখালী জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপম বড়ুয়া তার পাঠানো রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, সুবর্ণচর ও হাতিয়ায় কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সুবর্ণচর ও হাতিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলেও তা সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যাপক সহিংসতা ও ভোট কেন্দ্রদখলের মধ্য দিয়ে উপজেলা নির্বাচনের পাঁচ দফা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে । কিন্তু তদন্ত কমিটির পাঠানো রিপোর্টে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণসম্পন হয়েছে এবং কোথাও কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ রিপোর্ট কেউ বিশ্বাস করবেনা। কারন সহিংসতার কারনে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রায় ২০০ টি ভোট কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
তিনি বলেন, সরকারকে খুশি করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় এ সাজানো রিপোর্ট করা হয়েছে।
এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। রিপোর্টে কোথাও কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপরেও অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে নির্বাচন কমিশন।
উল্লেখ্য, পাঁচ ধাপে দেশের ৪৫৮টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কেন্দ্রদখল, জালভোট, ভোট কারচুপি, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
[b]ঢাকা, এএম, ২৩ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এনএস[/b]
শ্রেণীহীন
'স্বাধীনতার পর এরকম সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হয়নি'
চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পাঁচ দফায় কোথাও কোন অনিয়ম ও সহিংসতা হয়নি। এছাড়া কোন কেন্দ্রে জাল ভোট, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও ভোট কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনাও ঘটেনি।





