যুদ্ধের সময় বিডিআর’র ল্যান্স নায়েক ছিলেন শহীদ আবদুল হাফিজ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে দেশের কোনো এক প্রান্তে তিনি প্রাণ হারান। যুদ্ধের পরেও তার লাশ খুঁজে পায়নি পরিবার। পরে বাবার পথ দেখেই বিডিআর-এ যোগ দেন ছেলে মিজানুর রহমান।
জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) ৩১ ব্যাটালিয়নের নায়েক পদে চাকরিরত ছিলেন। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর একই বাস্তবতার মুখোমুখি হন মিজানুর রহমান। ২০১৪ সালে এসে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার হয়ে বাবার মতই হারিয়ে গিয়ে দুই দিন পর তার লাশ হওয়ার খবর পাওয়া গেলো।
জানা যায়, গত ২৮ মে সকালে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) হাতে আটক বিজিবি সদস্য নায়েক মো. মিজানুর রহমানকে শুক্রবার ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। সে কারণে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের পাইনছড়ি ৫২ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন বিজিবির সদস্যরা। কিন্তু মিজানকে ফিরিয়ে না দিয়ে উল্টো বিজিবি সদস্যদের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে বিজিপি সদস্যরা। পরে বিজিবি আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।
নাইক্ষংছড়ি থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এখনও লাশটি ফেরত দেয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাতৃভূমির ভূখণ্ড রক্ষার জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিজিবি ও বিজিপির সদস্যরা নিয়মিত টহলে বের হয়েছিলেন। টহলের এক পর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা ৫২ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে যায়। পিলারের কাছে পৌঁছানো মাত্র বিজিবি সদস্যদের ওপর বিনা উস্কানিতে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে মিয়ানমারের বিজিপি।
এ ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন নায়েক মিজান। মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীদের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। এলাকায় ছড়িয়ে থাকা রক্ত মাখা মাটিই বলে দেয় মিজান আর বেঁচে নেই। গুলি লাগার পর তার দেহটি মাটিতে পড়েছিল। পরে মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যরা নায়েক মিজানুরের নিথর দেহটি নিয়ে গেছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করে।
বিজিবি সদস্য মিজানের স্বজনরা বৃহস্পতিবার ভোরে খবর পেয়ে কুমিল্লা দেবীদ্বার থেকে ছুটে আসেন নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ক্যাম্পে। তাদের কান্নায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ।
[b]ঢাকা, ৩১ মে(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস[/b]