মৌসুমের সর্বোচ্চ ঠান্ডা পড়ায় বিপাকে রয়েছে মানুষ,পশুপাখিসহ বিভিন্ন ধরনের জীবজন্তু। শীত আর কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রংপুরসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের মানুষ। বাতাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ আর্দ্রতা কাছাকাছি আসায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
রংপুর আবহওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমান জানান,গত সোমবার সকাল ৬টায় রংপুর অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আতিকুর রহমান জানান,বাতাসের আর্দ্রতা কাছাকাছি হওয়ায় বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হতে না পারায় সূর্যের নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গত মাসের শেষ সপ্তাহের পর আবারও চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষের দিক থেকে শীত জেঁকে বসেছে। ঝরছে শীত ও কুয়াশা বৃষ্টি,আছে শৈত্যপ্রবাহ।
শীতের কারণে অঞ্চলটিতে শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত রোগবালাই মারাত্মকভাবে বাড়ছে। প্রতিদিন সহস্রাধিক রোগী এ অঞ্চলের রংপুর,বগুড়া,দিনাজপুর,রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ জেলা ও উপজেলা সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং অনেকেই ভর্তি হচ্ছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার ডাক্তার কামরুজ্জামান জানান,প্রতিদিনই সর্দি,কাশি,নিউমোনিয়া,বাতজ্বর,আমাশয়সহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে। গুরুতর অসুস্থদের ওয়ার্ডে ভর্তি করে নেয়া হচ্ছে।
শীতের এ পরিস্থিতিতে মানুষের পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ গবাদিপশুর অবস্থাও কাহিল হয়ে পড়েছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। শহরের সব জায়গায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। শীতবস্ত্রের অভাবে দরিদ্রদের ভোগান্তি সীমাহীন।
উত্তরাঞ্চলের জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া সূত্রে প্রকাশ,এ অঞ্চলে হতদরিদ্রের সংখ্যা এক কোটির উপরে। তিন দফায় এ অঞ্চলে সরকারি কম্বল এসেছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ পিস,যা জেলা প্রশাসকদের দেয়া চাহিদার চেয়েও ৪ লাখ ২ হাজার ৪০০ পিস কম।
গেল ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে জেলা প্রশাসন অফিসগুলো থেকে প্রত্যেকে জেলার জন্য ৪০ হাজার পিস করে মোট ছয় লাখ ৪০ হাজার কম্বলের চাহিদা দেয়া হয়েছিল ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে। এখন পর্যন্ত যা এসেছে তা চাহিদার তুলনায় আড়াই ভাগেরও কম।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার দিলোয়ার বখত বলেন,সরকার শীর্তাত মানুষের পাশে আছে। এ সময় সরকারের পাশাপাশি শীতার্তদের পাশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
[b]ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি( টাইমনিউজবিডি)// জেআই[/b]