চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পাঁচ দফায় বিভিন্ন  অনিয়ম ও ব্যর্থতার দায় ঢাকতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ও কর্মচারীদেরকে প্রতিনিয়ত শো’কজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ)ও বরখাস্ত করা হচ্ছে। আর এ আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই এবার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি দিতে নতুন করে যোগ করা হয়েছে বিভাগীয় মামলা। উপজেলা নির্বাচনের সকল ব্যর্থতার দায় কর্মকর্তাদের উপর চাপাতেই বিভাগীয় মামলার এই প্রস্তুতি চলছে। এ নিয়ে  ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর এর প্রভাব পড়েছে ইসির দৈনন্দিন  কর্মকাণ্ডে।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা ও অনিয়ম হওয়ার পর থেকে হঠাৎ করে শুরু হয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শো’কজ(কারণ দর্শানোর নোটিশ) ও বরখাস্তের আদেশ। আর এটা কাটতে না কাটতেই নতুন করে শুরু হয়েছে চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি। এ নিয়ে কমিশনের কর্মকর্তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
এ বিষয়ে ইসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ভারপ্রাপ্ত সিইসির দায়িত্ব  নেয়ার পর আব্দুল মোবারক তার ব্যক্তিগত ইচ্ছাকেই প্রাধান্য  দিতে শুরু করেন। তার (মোবারক) একক সিদ্ধান্তে চলছে নির্বাচন কমিশনের সকল কার্যক্রম। কর্মচারীদের ওপর নেমে আসছে একের পর এক অন্যায় সিদ্ধান্ত। এখন আবার নতুন করে শুরু হয়েছে বিভাগীয় মামলার খড়গ।
এদিকে, সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজের কাজের বাইরে অন্য দফতরের কাজে সহায়তা করতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ, কখন কার ভাগ্যে কোন খড়গ নেমে আসে এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তাদের মাঝে। পুরো কমিশনই এখন আতঙ্কের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, সিইসি ৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে  যাওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একান্ত সচিব ও ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব  একেএম মাযহারুল ইসলামকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই  ভারপ্রাপ্ত সিইসি বরখাস্ত করেন। আর এর কয়েক দিন পর তাকে সতর্ক করে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে নেন।
এছাড়াও  কমিশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের কাজে সামান্য ত্রুটি পাওয়ায় তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে শো’কজের দু’একটি উদাহরণ মিললেও বরখাস্তের নজির নেই।
এদিকে গাজীপুরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামানকে ভোটার তালিকায় নাম সংশোধনের সুপারিশ করায়, একই জেলার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আয়শা আক্তারকে এ নাম সংশোধনের তদন্ত সঠিকভাবে না করায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মমিনকে অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে, সিনিয়র সহকারী সচিব মাহফুজা খানমকে অনিয়মিত অফিসে আসায়, কুষ্টিয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বজলুর রহমানকে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার নির্দেশ দেন মোবারক। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে শুনানি হয় ইতিমধ্যে  সম্পন্ন হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে  সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে টাঙ্গাইল-৮ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ইসির ওয়েবসাইটে আপলোড না করার ইস্যুতে বরখাস্ত করার হুমকিতে ছিলেন নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখা-১ এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ওই শাখার নথির তথ্যানুযায়ী, তারা পুনতফসিলের কাগজটি ওয়েবসাইটে  দেয়ার জন্য  আইটি শাখাকে সরবরাহ করলেও  তা যথাসময়ে আপলোড করেনি আইটি শাখা। আর তাই  নির্বাচনী এবং আইটি দু’টি শাখার সংশ্লিষ্টদের বরখাস্ত না করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন ও এমএলএসএস দেলোয়ারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার আদেশ দিয়েছেন কমিশনার আবদুল মোবারক। এ বিষয়ে  আগামী মঙ্গলবার শুনানি হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত  প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক  বলেন, যে পর্যন্ত এই দায়িত্বে (ভারপ্রাপ্ত সিইসি) রয়েছি, ততক্ষণ যারা অনিয়ম করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেননা আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে। আমিও আইনের বাইরে কিছুই করবোনা। নির্বাচন কমিশনের কোন কর্মকর্তা অনিয়ম করলে তাদের বরদাশত করা হবে না।
উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ থেকে দেড় মাসের সফরে সস্ত্রীক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবকাশে যাপনে আছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ। সিইসির অনুপস্থিতিতে রুটিন দায়িত্ব পালনের বিধান থাকলেও নিজেকে ভারপ্রাপ্ত  সিইসি বলেই ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক। সংবিধানে ভারপ্রাপ্ত সিইসির বিধান না থাকা সত্ত্বেও তিনিই সিইসি হিসেবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অযাচিতভাবে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
[b]ঢাকা, ১৩ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]