আসন্ন ৯৬ উপজেলার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৪২৮ জনের মধ্যে ১৫ জনই হত্যা মামলার আসামি। এ ছাড়া ১২২ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অপরাধের ফৌজদারি মামলা। চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন-২০১৪-এর প্রথম পর্যায়ে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই নির্বাচন।
সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীগণের তথ্য প্রকাশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এই তথ্য জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে সুজন দাবি করে, প্রথম পর্যায়ে ৯৮ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অসহযোগিতার কারণে সব উপজেলার প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তাই সুজন ৯৬ উপজেলার ৪২৮ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর তথ্য নিয়ে একটি রিপোর্ট তুলে ধরেছে।
লিখিত বক্তব্যে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, এ কারণে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্নার পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্য চারজন নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবকে পৃথকভাবে উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রদত্ত হলফনামার তথ্য প্রকাশ ও প্রচার না করার জন্য কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না, সে মর্মে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আশা করি, জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্যাদি দাখিলের সঙ্গে সঙ্গে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং ভোটারদের মাঝে প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’
রিপোর্টে দেখানো হয়, শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ৪২৮ প্রার্থীর ৫১.৪০ শতাংশই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর। যদিও ১৮.২২ শতাংশ বা ৭৮ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির কম। ৫১.৬৪ শতাংশ চেয়ারম্যান প্রার্থীর পেশা ব্যবসা এবং কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত আছেন ২১.০৩ শতাংশ প্রার্থী। মোট ২৮ প্রার্থী হলফনামায় পেশার কথা উল্লেখই করেননি।
বাৎসরিক এক কোটি টাকার ওপরে আয় করা প্রার্থী ছয়জন বলেও রিপোর্টে বলা হয়। বাকিদের মধ্যে ৬৭.৫২ শতাংশ প্রার্থী বছরে পাঁচ লাখ টাকার নিচে আয় করেন। অনেক প্রার্থীই সম্পদের আর্থিক মূল্য উল্লেখ না করায় আর্থিক মূল্যে সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ৪২৮ প্রার্থীর মধ্যে আয়কর প্রদান করেন মাত্র ২৪.০৬ শতাংশ প্রার্থী।
সুজনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, দেশের সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য এই উপজেলা নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের নিজেদেরই হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্যসমূহ ভোটারদের সামনে তুলে ধরা উচিত।
সুজন মনে করে, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রার্থীদের তথ্যসমূহ নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে উপজেলাভিত্তিক ভোটারদের জ্ঞাতার্থে লিফলেট আকারে তুলে ধরা হলে ভোটাররা প্রার্থীদের সম্পর্কে জেনেশুনে বুঝে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন।
লিখিত বক্তব্যে দিলীপ কুমার আরো বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা জনগণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিভিন্ন নির্বাচনের জন্য নিশ্চয়ই এমন কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে গুণগত পরিবর্তন আনবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সুজনের নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, ঢাকা জেলার সহসভাপতি আবুল হাসনাত, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন-২০১৪ এর জন্য চার দফায় মোট ৩৩৫টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করেছে। বাকি উপজেলাগুলোর তফসিলও শিগগিরই ঘোষণা করা হবে এবং সবগুলো উপজেলার নির্বাচন আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই শেষ করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।
[b]ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // কে বি [/b]
হত্যা মামলার ১৫ আসামি উপজেলায় প্রার্থী: সুজন
আসন্ন ৯৬ উপজেলার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৪২৮ জনের মধ্যে ১৫ জনই হত্যা মামলার আসামি। এ ছাড়া ১২২ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অপরাধের ফৌজদারি মামলা। চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন-২০১৪-এর প্রথম পর্যায়ে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই নির্বাচন।
রবীন্দ্রনাথের ছবি মোছার চেষ্টা, আয়াস-সাকিবুল-সুজন-রিমি রিমান্ডে
রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি মোছার চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্য সচিব আ ন ম আয়াসসহ চার জনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এএসআই আমির হোসেন, ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়ের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ এমপির মধ্যে ২৭১ জন কোটিপতি: সুজন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৭১ জনের সম্পদ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিএনপির ১৬৭ প্রার্থী ঋণগ্রহীতা : সুজন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রহীতা প্রার্থী রয়েছে বিএনপিতে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর তথ্যমতে, বিএনপির ১৬৭ জন প্রার্থী ঋণগ্রহীতা, যা মোট ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ।
















