আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে (২০১৪-১৫ অর্থ বছরের) নির্বাচন কমিশন তাদের একটি বাজেট প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত এ  বাজেটে  ইসির সম্ভাব্য ব্যয়  নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শত ১৭ কোটি টাকা। সরকারের অর্থবিভাগের কাছে চলতি সপ্তাহে  এ প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশন সূত্র।
সূত্র জানায়, বাজেটের পরিপত্র অনুযায়ী,প্রস্তাবিত বাজেটের এ (৭ শত ১৭ কোটি টাকা) ব্যয়কে ২ ভাগে ভাগ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর একটি নাম দেয়া হয়েছে অনুন্নয়ন খাত, অপরটির নাম দেয়া হয়েছে উন্নয়ন খাত। অনুন্নয়ন খাতে ২১২ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এ খাতের অর্থ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন (সিটি, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ) ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন উপনির্বাচনে ব্যয় করা  হবে বলে প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে ।
তবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) নির্বাচন নিয়ে সরকারের আগ্রহ না থাকায় এ প্রস্তাবে  ডিসিসি নির্বাচনের জন্য কোন বরাদ্ধ দেওয়া হয়নি।  
অপর দিকে উন্নয়ন খাতের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০৫ কোটি টাকা।  আর এ খাতরে অর্থ চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ভোটার তালিকার ডাটাবেইজে উন্নত প্রযুক্তি যোগ করা,নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, স্মার্ট আইডি কার্ডসহ নির্বাচন কমিশনের চলমান বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হবে বলে বলে প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।  
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের বাজেট শাখার এক সিনিয়র সহকারি সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইমনিউজবিডিকে বলেন, নির্বাচন কমিশন আগামী অর্থবছরের  সম্ভাব্য ব্যয় ৭ শত ১৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অর্থ দুই খাতে ব্যয় করা হবে।  চলতি সপ্তাহের মধ্যে অর্থবিভাগের কাছে এ প্রস্তাব পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এ প্রস্তাব  অর্থবিভাগে পাঠাবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এ অর্থ ছাড়াও যখন যে অর্থের প্রয়োজন তা প্রস্তাব করা হলে দ্রুতই বরাদ্ধ দেয়া হয় বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মোবারক সাংবাদিকদের বলেন, আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে ।  দ্রুত এ প্রস্তাবটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে  পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কমিশনার বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে নতুন কিছু এলাকা যোগ হওয়ায় সীমানা সংক্রান্ত জাটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সীমানা জটিলতা নিরসনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে বার বার তাগিদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।  কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ এ বিষয়ে কোন সারা দেয়নি। তাই ডিসিসি নির্বাচনকে বাদ দিয়ে আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে একটি  সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।  
তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিগত ২০১২ সালে তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২৪ মে ডিসিসি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।  কিন্তু একটি সংগঠনের করা রিট আবেদনের কারনে  দীর্ঘ ১ বছর  নির্বাচনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। এরপর নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও সরকারের অনিচ্ছার কারনে আর নির্বাচন হয়নি। আর তাই ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে ইসির কোন আগ্রহ নেই বলে জানান তিনি।
[b]ঢাকা, এএম, ২৭ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) //এসআর[/b]