আমার স্বামীর সাথে কারো শত্রুতা নেই। তিনি আমার ভাইয়ের সাথে ব্যবসা করেন। যদি অন্য কারো সাথে শত্রুতা থাকলে মুক্তিপন চাইতো। এমন কিছু ঘটেনি। সাদা পোশাকধারী লোকজন এসে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে গেছে। আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই।
আহাজারি করতে করতে কথা গুলো বলছিলেন, সাভারের ধামরাই এলাকার অপহরণের শিকার ইট ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের (৩৫) স্ত্রী সালেহা বেগম।
সাভারের ধামরাই উপজেলার জয়পুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে রেজাউল করিম নামে ওই ইট ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়। এরপর চারদিন অতিবাহিত হলেও সন্ধান মেলে নি তাঁর। অপহৃত রেজাউল করিম ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের বানেশ্বর গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে।
পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে খুঁজে সন্ধান না পাওয়ায় বুধবার অপহৃতের স্ত্রী সালেহা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে অপহরণের তিনদিনেও রেজাউলের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইলফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
অপহৃতের স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, আমার স্বামী রাতে খেতেও আসে নি। ইট ভাটা থেকেই স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়।
অপহৃতের মা ফিরোজা বেগম জানান, সোমবার সন্ধার পর কে বা কারা রেজাউল করিমকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রাত ১০টায় প্রতিবেশী আবুল হোসেনের মাধ্যমে জানতে পারি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকে কয়েকজন লোক জয়পুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে রেজাউলকে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে ঢাকার দিকে নিয়ে গেছে।
অপহৃতের ছোট ভাই রাহিমুল জানান, ওসির কাছ থেকে শুনেছি ডিবি পুলিশ ভাইকে ধরে নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখেছে। তবে কি কারণে আটকে রেখেছে তা জানাতে পারেন নি ওসি। এব্যাপারে মিন্টোরোডে ডিবি পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেও ভাই রেজাউলের সন্ধান মেলে নি বলে জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী আবুল হোসেন বলেন, জয়পুরা বাসস্ট্যান্ডে রেজাউল করিমকে তিনজন ব্যক্তি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গাড়িতে তোলার সময় আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকেও গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখান।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ধামরাই থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুরি রশিদ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আমরা আপনাকে নিশ্চিত করছি যে ধামরাই থানা পুলিশ রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করে নি। অপহরণের ঘটনার দু দিন পর পরিবারের পক্ষ অপহৃতের স্ত্রী সালেহা বেগম একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছি।
তবে ওসি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো মামলার কারণে অথবা কোনো মামলার সংশ্লিষ্টতার কারণে রেজাউলকে ডিবি পুলিশ আটক করে নিয়ে যেতে পারে।
এব্যাপারে ডিএমপি উত্তর জোন ডিবি পুলিশের ওসি শাহিন পারভেজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাইমনিউজবিডিকে বলেন, রেজাউলকে আটক করেছে মহানগর ডিবি পুলিশ। রেজাউল এখন ডিবি’র মিন্টো রোড অফিসে আটক রয়েছে। এর বেশি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
এব্যাপারে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি) একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে কেউই এব্যাপারে কথা বলতে রাজি হন নি।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপি’র উপকমিশনার(মিডিয়া) মাসুদুর রহমানের সাথে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।
[b]ঢাকা, জেইউ, ১ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ[/b]
শ্রেণীহীন
এখনও খোঁজ মেলেনি ব্যবসায়ী রেজাউলের
আমার স্বামীর সাথে কারো শত্রুতা নেই। তিনি আমার ভাইয়ের সাথে ব্যবসা করেন। যদি অন্য কারো সাথে শত্রুতা থাকলে মুক্তিপন চাইতো। এমন কিছু ঘটেনি। সাদা পোশাকধারী লোকজন এসে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ধরে





