মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. হুমায়ুন কবীরের মা বিলকিস বেগম আর নেই। ইন্না লিল্লাহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।
বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বাসায় কনিষ্ঠ ছেলে প্রকৌশলী ওয়াসেল কবীর গুলফামের বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর সময় বিলকিস দুই ছেলে ও চার কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
মরহুমা বিলকিস বেগমের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নে। শরীয়তপুরের প্রখ্যাত বুজুর্গ মৌলভী আবা খালেদ আবদুর রহমানের (রহ.) দ্বিতীয় কন্যা ছিলেন তিনি। ভূস্বামী নূরুল হক সরকারের সহধর্মিনী ছিলেন তিনি।
মরহুমা বিলকিসের লাশ আইসিডিডিআরবির হিমঘরে রাখা হয়েছে। মরহুমার ছেলে ইয়েমেন ইউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. ফয়সাল কবীর দেশে ফিরলে আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা উত্তরা নর্দারটেক মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বনানী কবরস্থানে স্বামীর পাশে তাকে দাফন কার হবে।
শহীদ জননী বিলকিস বেগমের মৃত্যুতে টাইমনিউজবিডি.কম পরিবার গভীর শোক জানিয়েছে। পত্রিকার আইন প্রতিবেদক গালীব ইহসান মরহুমার ভাতুষ্পুত্র।
উল্লেখ্য, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে বিলকিস বেগমের বড় ছেলে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. হুমায়ুন কবীর মুক্তিযুদ্ধকালে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় তার মামা আবুল বাশার ও আমিমুল ইহসানের শশুড় আবদুল জলিল চৌকিদারের বাড়িতে অবস্থান করে ওই এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন।
পরে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার উদ্দেশে তিনি ডামুড্যা থেকে ঢাকায় এসে হাতিরপুলের ফ্রি স্কুলস্ট্রিটে বোনের বাসায় থাকতে শুরু করেন। এখানে তিনি ডা. আজহারুল হকের সাথে মিলে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ও গোপন আস্তানায় গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দেন। হাতিরপুলের ‘সাইদা ফার্মেসি থেকে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের ঔষধও সরবরাহ করেন।
দুই চিকিৎসকের এই গোপন মিশনের কথা পাক হানাদার বাহিনীকে জানিয়ে দেন সাইদা ফার্মেসির পাশে থাকা ‘আলী ফার্মেসির’ বিহারী মালিক। তার তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭১ সালের ১৫ নভেম্বর তাদের হাতিরপুল থেকে ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের পর হত্যা করে পাক হানাদার বাহিনী। পরদিন ১৬ নভেম্বর ঢাকার নটরডেম কলেজের সামনের রাস্তার কালভার্টের নীচ থেকে হাত, পা, চোখ বাধা অবস্থায় তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় কারফিউর মধ্যে তাদের আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঢাকা, জিই ফেব্রুয়ারি ১৩ (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ
শ্রেণীহীন
চলে গেলেন শহীদ জননী বিলকিস বেগম
মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. হুমায়ুন কবীরের মা বিলকিস বেগম আর নেই। ইন্না লিল্লাহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বাসায় কনিষ্ঠ ছেলে প্রকৌশলী ওয়াসেল কবীর গুলফামের বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন





