[b]ঢাকা:[/b] দেশের সবশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিএনপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
আজ বুধবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর গুলশান-২ এর হোটেল ওয়েস্টিনের বলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশ-বিদেশি প্রায় দুই শতাধিক গণমাধ্যমকর্মীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান টাইম নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
গত ৫ জানুয়ারি দেশে-বিদেশে অগ্রহণযোগ্য ও বিতর্কিত ১০ম নির্বাচনের পর ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার এই সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে নানা কৌতূহল রয়েছে । কোন কোন বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেন বেগম খালেদা জিয়া?
দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমতকে উপেক্ষা করে দলীয় সরকারের অধীনে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। বিরোধী জোটের ভাষায় প্রহসনের এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় ইতোমধ্যে বিরোধী দলের আসন হারিয়েছে বিএনপি।
৯ম সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি ও অন্যান্য কয়েকটি দল ছাড়াই নির্বাচন করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ।
এ নির্বাচনকে অবৈধ ও এর মাধ্যমে গঠিত সরকারকে অনৈতিক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।
এর আগে নির্বাচন পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে সোমবার রাত পৌনে ৯টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেন ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষনেতারা।খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা বৈঠকে সবশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতের বৈঠকে জোটের একাধিক নেতা অবরোধ-হরতাল অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিলেও কূটনৈতিক চাপের কারণে সেদিকে আপাতত যাচ্ছেন না বিরোধী জোট।
এজন্য আন্দোলনে ভিন্নতা এনে সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিংয়ের মতো সহনীয় কর্মসূচি দিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে যেমন জোট আন্দোলনে থাকবে তেমনি জনদুর্ভোগ না থাকায় জনমতও বাড়বে জোটের পক্ষে।
কিন্তু সরকারের নির্দেশে যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে দেশব্যাপী চলা দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে কঠোর কর্মসুচির বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে। তবে আজকের সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণার সম্ভাবনা খুবই কম। এজন্য সরকারকে কিছুদিন সময় দিয়ে তাদের মনোভাব দেখতে চায় বিরোধী জোটের নেতারা।
সেই বিষয়টি ভাবনায় রেখেই আজকের সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য সাজানো হয়েছে। বক্তব্যের শুরুর দিকে বিরোধী জোটের আহ্বানে সারা দিয়ে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করায় ১৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়া দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাতে পারেন ।
ভোটার ও প্রার্থীবিহীন ১০ম নির্বাচনের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বিরোধী জোটের ওপর সরকারের দমন পীড়নের সবশেষ পরিসংখ্যান দেশবাসীসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরতে পারেন খালেদা জিয়া।
এছাড়াও নির্বাচন পরবর্তী দেশের সংখ্যালঘু সম্পদায়ের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এর জন্য সরকারকে দায়ী করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোটের অবস্থান পরিষ্কার করে এসব ঘটনায় দায়ীদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবী করতে পারেন।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণের মতামতের যে বাস্তব প্রতিফলন হয়নি সে বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে জোরালোভাবে তুলে ধরে বক্তব্য দিতে পারেন খালেদা জিয়া।
দেশে-বিদেশে অগ্রহণযোগ্য এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের প্রতি অনাস্থা জানাতেও তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানাতে পারেন। ২৯ ডিসেম্বর মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচিতে তাকে যেতে না দেওয়া এবং গৃহবন্দী করে রাখার বিষয়গুলো উল্লেখ করে খালেদা জিয়া এর বিচারের ভার দিতে পারেন দেশের জনগণের কাছে।
সবশেষে সঙ্কট নিরসনে সরকারের প্রতি আবারো সমাঝোতার আহ্বান জানিয়ে জণগণের দাবি মেনে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচনের দাবী করতে পারেন।
এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর গুলশানের নিজ কার্যালয়ে সবশেষ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া একদলীয় নির্বাচনকে না বলতে এবং গণতন্ত্রকে হ্যাঁ বলতে দেশবাসীর প্রতি লাল সবুজের পতাকা হাতে ঢাকা অভিমুখে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন।
শ্রেণীহীন
সংবাদ সম্মেলনে যা বলতে পারেন খালেদা
দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করা ১৮ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া। আজ বুধবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর গুলশান-২ এর হোটেল ওয়েস্টিনের বলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।





