বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস আজ । ‘ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করুন : ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করুন’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে এ দিবসটি। তবে আজ ম্যালেরিয়ার ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ কথাটি স্বীকার করেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার (মেডিসিন), ডায়াবেটিক ও হরমোন বিশেষজ্ঞ (এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট)  ডা. শাহজাদা সেলিম।
ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, নানা কারণে বাংলাদেশ ম্যালেরিয়ার ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশের ১৩টি জেলার ৭০টি উপজেলায় ৬২০টি ইউনিয়নকে ম্যালেরিয়া উপদ্রুত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০০৫ সালে এ ১৩টি জেলায় ৪৮,৬৪৭ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ৫০১ জন মারা যান। জাতীয় ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় বড় আকারে কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ২০১২ সালে এসে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯,৫১৮ জন। তাদের মধ্যে ১১ জন মারা যান।
তিনি আরো জানান, ২০১৩ সালে পৃথিবীব্যাপী ২০ কোটি ৭ লাখ ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়, যার মধ্যে মারা যান ৬ লাখ ২৭ হাজার। প্রধানত বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশ, আফ্রিকার অধিকাংশ দেশ ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশসমূহ ম্যালেরিয়া উপদ্রুত। তবে ম্যালেরিয়া উপদ্রুত এ সব দেশে মৃত্যুহার কমলেও সংক্রমণের হার খুব একটা কমেনি।
যে সব কারণে ম্যালেরিয়া হয়ে থাকে সে প্রসঙ্গে বলেন, প্রধানত, মশাবাহিত চারটি পরজীবীর কারণে ম্যালেরিয়া হয়ে থাকে। এরা হলো- প্লাসমোডিয়াম ফ্যালসিপ্যারাম, প্লাসমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স, প্লাসমোডিয়াম ম্যালেরি ও প্লাসমোডিয়াম ওভেল। স্ত্রী অ্যানোফিলিস প্রজাতির মশার মাধ্যমেই সাধারণত এ রোগ ছড়ায়। অঞ্চলভেদে ম্যালেরিয়ার পরজীবী ও বাহকের প্রজাতি পরিবর্তন হতে পারে। মানুষের দেহ থেকে রক্তের মাধ্যমে পরজীবী মশার দেহে প্রবেশ করে। জীবনচক্রের একপর্যায়ে মশার কামড়ের মাধ্যমে ওই পরজীবী আবার মানুষের দেহে প্রবেশ করে।
ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিভিন্ন মাত্রায় জ্বর দেখা দেয়। শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো সাধারণত তীব্রতর হয়ে থাকে। জ্বরের সঙ্গে রক্তস্বল্পতা, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, বমি হওয়া বা ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যাওয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। ফ্যালসিপ্যারাম ম্যালেরিয়াতে লক্ষণ আরও মারাত্মক হয়ে দেখা দেয়। এতে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে বা চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ হতে পারে। শিশু, গর্ভবতী মহিলা, যক্ষা বা এইচআইভিতে আক্রান্ত রোগী এবং পর্যটকরা দ্রুত ও মারাত্মকভাবে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন।
ম্যালেরিয়া রোগ শনাক্তকরণের জন্য রোগীর দেহ থেকে রক্ত নিয়ে তাতে পরজীবীর উপস্থিতি প্রমাণ করতে হয়। এখন দ্রুত পরীক্ষা পদ্ধতি (আরডিটি) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রোগ শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা উচিত। তাতে রোগ দ্রুত সেরে যায় এবং স্বল্পস্থায়ী ও দীর্ঘস্থায়ী জটিলতার সম্ভাবনা কমে।
[b]ঢাকা, ২৫ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এসএইচ[/b]