[b]ঢাকা:[/b] নির্দলীয় সরকারের অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন করেও চূড়ান্ত সফলতা পায়নি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। তাদের আন্দোলনকে পাত্তা না দিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন শেষ করে নতুন সরকার হিসেবে শপথও নিয়েছে।
নির্বাচনের আগে শুরু করা আন্দোলনেরও ইতি টানে বিএনপি। ইতিমধ্যে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ স্থগিত করা হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, সরকারবিরোধী আন্দোলনের নতুন কৌশল নিয়ে রাজপথে নামার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
দ্রুত সম্ভব একাদশ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে বাধ্য করার লক্ষ্য নিয়েই নতুন কৌশল চূড়ান্ত করা হবে। বিভিন্ন মহল থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা উঠলেও সমঝোতার মাধ্যমে আগামী এক বছরের মধ্যেই একাদশ নির্বাচন চায় বিএনপি।
এক্ষেত্রে আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারের ওপর দেশী-বিদেশী চাপ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেয়া হবে বলে জানান দলটির নীতিনির্ধারকরা। সূত্র জানায়, আন্দোলনের নতুন কৌশল নির্ধারণ ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে শিগগিরই স্থায়ী কমিটি ও জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে আপাতত কঠোর কর্মসূচি দেয়ার সম্ভাবনা নেই।
একাদশ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সমঝোতার দরজা খোলা রেখেই আন্দোলনের কৌশল চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং পরবর্তী করণীয়সহ নানা বিষয় তুলে ধরতে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করবেন জোট নেত্রী খালেদা জিয়া।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, এ মুহূর্তে আর দশম নির্বাচন নিয়ে ভাবতে চাই না। আমরা চাই সমঝোতার মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ নির্বাচন। আমরা সব সময় সংলাপকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।
কারণ সংলাপের বিপরীত হচ্ছে সংঘাত। আমরা চাই না দেশে আর আগুন জ্বলুক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারও গণতন্ত্রের কথা সর্বোপরি দেশের কথা চিন্তা করে অবিলম্বে একটি সমঝোতায় পৌঁছবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের টার্গেট নিয়ে কৌশল চূড়ান্ত করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। এই লক্ষ্যে শিগগিরই আমাদের করণীয় চূড়ান্ত করা হবে। বিগত সময়ের আন্দোলনের ব্যর্থতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে আন্দোলন বা আমাদের দাবির সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করা। নতুন সরকারকে চাপে রাখতে সব ধরনের কৌশলই নেয়া হবে। তাদের আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হবে জনগণ এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে।
মাহবুব বলেন, নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল ইতিমধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। জনগণের দাবির সঙ্গে প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র একমত পোষণ করেছে। দেশী-বিদেশী সব মহলের মনোভাব অনুধাবন করে সরকারের উচিত হবে একটি সমঝোতায় আসা। না হলে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের দেশ গভীর সংকটের দিকেই চলে যাবে।
সূত্র জানায়, আন্দোলনের নতুন কৌশল চূড়ান্ত করার আগে বেশ কিছু বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। বিগত সরকারের সময়ে বিএনপির আন্দোলনের সফলতা ও ব্যর্থতা চিহ্নিত করা হচ্ছে। চূড়ান্ত আন্দোলনে ব্যর্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটন করে তা সমাধানকে অগ্রাধিকার ইস্যু হিসেবে নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সংগঠনের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনে কোন কোন ইউনিটের কি ভূমিকা ছিল তা পুস্খানুপুস্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। সংগঠনকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে শিগগিরই জেলা সফরে যাওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে গঠন করা হবে বেশ কয়েকটি কমিটি। তবে এবার কমিটি করা থেকে শুরু করে টিমগুলো কি কাজ করেছে তা সরাসরি মনিটর করবেন খালেদা জিয়া।
বিগত আন্দোলনে যেসব কেন্দ্রীয় নেতা নিজেদের রক্ষায় ব্যস্ত ছিলেন তাদের অনেককেই ওই সব কমিটিতে রাখা হচ্ছে না। যেসব কেন্দ্রীয় নেতা জেলা বা মহানগরীর দায়িত্বে আছেন এবং আন্দোলনেও রাজপথে ছিলেন তাদেরই ওইসব কমিটিতে রাখা হবে।
তৃণমূল নেতারা অভিযোগ করে বলেন, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে ব্যাপক জনসম্পৃক্তা থাকার পরও কিছু কৌশলগত কারণে তা চূড়ান্ত রূপ দেয়া সম্ভব হয়নি। সরকারের কৌশল বুঝতেও ব্যর্থ হয়েছে নীতিনির্ধারকরা। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিক এটা আওয়ামী লীগ চায়নি। সংলাপ বা সমঝোতার প্রস্তাব ছিল তাদের ওই ইচ্ছা বাস্তবায়নের কৌশল। কিন্তু বিএনপির নীতিনির্ধারকরা সেই কৌশলেই পা দিয়েছে।
একদিকে সমঝোতার কথা বলছে অন্যদিকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখা এসব বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। সর্বশেষ নির্বাচনের কিছু আগে সরকারের কৌশল কিছুটা বুঝতে পারলেও ক্ষমতাসীনদের কঠোর অবস্থানে তা মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছে তারা। সিনিয়র নেতাদের আত্মগোপনে থাকার কৌশলও শেষ পর্যন্ত কাজে লাগেনি। এই কৌশলের আশ্রয়ে কেন্দ্রীয় এমনকি মহানগর বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারাও রাজপথে নামেনি।
সূত্র জানায়, বিগত আন্দোলনে কেন্দ্রীয় কিছু নেতা ও ঢাকা মহানগরীর নেতাকর্মীরা ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও সারা দেশে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ছিল বেশ সক্রিয়। সরকারের কঠোর নির্যাতন ও ধরপাকড়ের মধ্যেও তারা কর্মসূচি সফল করে। তাই আন্দোলনের কৌশল চূড়ান্ত করার আগে তৃণমূলের মতামতকে বেশ গুরুত্ব দেয়া হবে। ইতিমধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজেই অনেক জেলা নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আরও কথা বলবেন। সাংগঠনিক পুরো বিষয়টি এবার সরাসরি মনিটর করবেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। মূল দলের পাশাপাশি পুনর্গঠন করা হবে ছাত্রদল, যুবদলসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গসংগঠনও।
সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার কৌশল হিসেবে এই মুহূর্তে কঠোর আন্দোলনে যাচ্ছে না দলটি। আপাতত জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির দিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। নতুন সরকারের গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনে কারচুপিসহ নানা বিষয়কে সামনে রেখে বিভাগীয় ও জেলা শহরে সমাবেশ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। বেশ কয়েকটি সমাবেশে খালেদা জিয়া নিজেই যেতে পারেন।
আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা যাতে সক্রিয় হতে পারে সেদিক বিবেচনা করেই এসব কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে তাদের দাবির প্রতি সম্পৃক্ত করা হবে। তাদের মতামত নেয়া হবে।
সূত্র জানায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকাতে না পারলেও আন্দোলনে বেশ কিছু সফলতা রয়েছে। বিশেষ করে দেশে-বিদেশে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে পারা একটি বড় সফলতা।
ইতিমধ্যে জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রভাবশালী দেশগুলো ইতিমধ্যে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কূটনৈতিক এই সফলতাকে ধরে রাখার ওপর বেশ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সরকারকে অবিলম্বে একাদশ নির্বাচন নিয়ে সমঝোতায় আসতে দেশী-বিদেশী চাপ অব্যাহত রাখতে চায় দলটি। সূত্র: যুগান্তর
শ্রেণীহীন
বিএনপির লক্ষ্য এক বছরের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন
নির্বাচনের আগে শুরু করা আন্দোলনেরও ইতি টানে বিএনপি। ইতিমধ্যে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ স্থগিত করা হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান,





