রাজধানীর আবাসন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাফরুল হক মুক্তার হত্যার ৬ মাস অতিক্রম হলেও মামলার তদন্তে অগ্রগতি আনতে পারেনি পুলিশ। ২৮ সেপ্টেম্বর মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের ট ব্লকের ৫ নম্বর সড়কের ৮৭/৮৮ নম্বর বাড়ির নিচতলায় ড্রয়িং রুমে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397381593.jpg[/img]
পুলিশ মামলার তদন্ত কাজ করলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে হত্যার কারণ ও আসামীদের সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি থানা  পুলিশ। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
নিহতের পরিবারের দাবি, দু'বছর আগে মাদারীপুরের শিবচরের করূপচরে স্থানীয় চাঁদাবাজরা মুক্তারের কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। এ ঘটনায় শিবচর থানায় তিনটি মামলা করা হয়। ওই তিন মামলায় আসামিদের সঙ্গে বিরোধের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
মুক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে যার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ, সেই শিবচরের ভদ্রাসন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রউফ সিকাদারকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যাকান্ডের মূলহোতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হলেও তারা রয়ে গেছেন ধরা ছোয়ার বাইরে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে রহস্যের জট খোলেনি। শিগগিরই রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
[b]যেভাবে খুন হন আবাসন ব্যবসায়ী জাফরুল[/b]
২৮ সেপ্টেম্বর, শনিবার দুপুর। রাজধানীতে আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোমস টেকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাফরুল হক মুক্তার মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের ট ব্লকের পাঁচ নম্বর সড়কের ৮৭/৮৮ নম্বর বাড়ির নিচতলায় তার ড্রয়িং রুমে বসে ছিলেন।
দুপুর ১২টার দিকে বাসার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় এক মোটরসাইকেলে ৩ আরোহী। তবে ৩ আরোহীর মধ্যে একজন খোলা দরজা দিয়ে বাসার ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করেন। অপর দু'জন বাইরে মোটর সাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন। মোহাম্মদ জাফরুল হক মুক্তার হঠাৎ শার্ট-প্যান্ট পরা এক যুবককে ঘরে ঢুকতে দেখে তিনি তার পরিচয় জানতে চান। কথা কাটাকটির একপর্যায়ে আগন্তুক ওই যুবক মুক্তারকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহতের বড় ছেলে রাজীব আহমেদ জানান, ঘটনার সময় দো’তলায় ঘরে বসে খাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে তিনি দৌড়ে নিচে নামেন। তখন তিনি শার্ট-প্যান্ট পরা এক যুবককে পালিয়ে যেতে দেখেন।
পরে বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রাজিব জানান, বুকের ডান পাশে ও ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও বাবা যুবককে জাপটে ধরে আটকানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অস্ত্রধারী যুবক পালিয়ে যায়।
[b]মৃত্যুর সময় মুক্তারের আকুতি
[/b]
"রউফ সিকদারের লোকজন আমাকে আর বাঁচতে দিল না। তোমাদেরও মেরে ফেলবে। কখনও গ্রামে যেও না। আমার লাশও গ্রামে নিও না।" মৃত্যুর ঠিক আগে বড় ছেলে রাজীব আহমেদকে এমন কথাই বলে গেছেন আবাসন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাফরুল হক মুক্তার।
নিহতের বড় ছেলে রাজীব আহমেদ বলেন, তার বাবা মৃত্যুর আগে বলে গেছেন, রউফ চেয়ারম্যান ও তার বংশের লোকজনই তাকে গুলি করেছে। তাছাড়া এর আগেও রউফ চেয়ারম্যানের নির্দেশে গ্রামের বাড়িতে তার বাবাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397381593.jpg[/img]
২০১২ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার বাবা রউফ সিকদারের বিরোধিতা করেন। ওই নির্বাচনে রউফ শিকদার হেরে যাওয়ায় বাবার কাছে তার লোকজন ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় একই বছরের ২৫ জুন তার বাবাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় রউফ চেয়ারম্যানের লোকজন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক আসামি হাবিব সিকদার জামিন নিয়ে কুয়েতে পালিয়ে যান। দায়ের করা মামলার সাক্ষীকে হত্যার জন্য ঘরে আটকে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। তার দাবি এসব বিষয়ে ছাড় না দেয়ায় থাকায় বাবাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছে রউফ চেয়ারম্যান।
[b]নিহতের পরিবারের দাবি[/b]
নিহতের ভাই পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ওয়ালিউল হক মন্টু টাইম নিউজবিডিকে জানান, হত্যাকান্ডের  ছয় মাস অতিবিাহিত হলেও পুলিশ তদন্তের কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। আসল আসামিদের মধ্যে কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি।
ভাতিজা রাজিবের বক্তব্যে এক মত পোষণ করে তিনি দাবি করেন, "দু’বছর আগে মাদারীপুরের শিবচরের করূপচরে স্থানীয় চাঁদাবাজদের সাথে শত্রুতার জের ধরেই মুক্তারকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।"
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঈন উদ্দিন টাইম নিউজবিডিকে বলেন, আবাসন ব্যবসায়ী হত্যাকান্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তদন্তের এখনো অনেক কিছু বাকি রয়েছে। খুনিদের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তবে খুনীদের এখনো সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত কাজ শেষ হলেই আপনারা জানতে পারবেন।
এ ব্যাপারে রূপনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মতলুবর রহমান টাইম নিউজবিডিকে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তিত হওয়ায় কাজে একটু ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে। দ্রুত মামলার তদন্ত কাজ শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে রূপনগর থানার ওসি শিকদার মোহাম্মদ শামীম হোসেন টাইম নিউজবিডিকে জানান, হত্যার কারণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে এখনো কিছু জানা যায় নি। হত্যাকান্ডের ঘটনায় জহির রায়হান নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভনকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
[b]ঢাকা, জেইউ, ১৩ এপ্রিল(টাইমনিউজবিডি.কম)// এএইচ[/b]