[b]ঢাকা:[/b] বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৮-দলীয় জোট নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সন্ত্রাসের পথে অবৈধ ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার অপচেষ্টাতেও শেষ রক্ষা হবেনা; বরং তাতে সংকট আরো জটিল ও গভীর এবং সমাধানের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
আজ সোমবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন বর্জন করায় দেশের মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন,  আমাকে কার্যত: গৃহবন্দী ও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে,  বিরোধী দল ও জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে সমস্যা ও সংকটের কোনো সুরাহা হবেনা।
বেগম জিয়া বলেন,  কারসাজি ও প্রহসনের মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার ঘৃণ্য অপচেষ্টাকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা আজ অকাতরে প্রাণ দিচ্ছেন। তাদের এই আত্মদান বৃথা যাবেনা।
তিনি আরও বলেন, “অভিনন্দন বাংলাদেশ। অভিনন্দন বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে। আমি অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের সচেতন নাগরিকবৃন্দ ও ভোটারদের। তারা ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে কলংকময় প্রহসনকে বর্জন করেছেন।
বেগম জিয়া বলেন,  দেশের এবং সারা দুনিয়ার মানুষ নিজের চোখে সরাসরি ও মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছেন এবং জেনেছেন যে, কিভাবে ভোটাররা এই কারসাজির ঘৃণ্য প্রহসনকে বর্জন করেছেন। সারাদিন সারাদেশের ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল ফাঁকা। ভোটারবর্জিত এই একতরফা কারসাজিকে জনগণ ঘৃণাভরে পুরোপুরি বর্জন করেছেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র হত্যার এই যজ্ঞে জনগণ সায় দেননি। প্রত্যাখ্যান করেছেন আওয়ামী লীগের এই নির্লজ্জ মহড়াকে।
খালেদা জিয়া বলেন,  ভোটারশূন্য এই নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে সকলের সামনে হাতে-কলমে প্রমাণিত হয়েছে যে,  সরকারের প্রতি মানুষের ঘৃণা ও অনাস্থা কত তীব্র। এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, তাদের মুষ্টিমেয় দোসর ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের গণবিরোধী কুকর্মও দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, সবখানে সারাদিন ভোটকেন্দ্রগুলো শূন্য পড়েছিল। কেউ ভোট দিতে আসেনি। বহু ভোটকেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। কোথাও কোথাও দু’চারটা করে ভোট পড়লেও এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল জাল। অথচ ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচন কমিশন অভিমুখে ছুটাছুটি ও তৎপরতার পর রাতে লাখ লাখ এবং হাজার হাজার ভোট পড়েছে বলে দেখানো হয়।
বেগম জিয়া বলেন, মানুষের কোনো ভোট বা সম্মতি ছাড়াই আগেই জাতীয় সংসদের ১৫৩টি আসন আওয়ামী লীগ ভাগ-বাটোয়ারা করে সিলেকশন করেছে। বাকি ১৪৭ আসনেও ভোটারদের সমর্থন দূরে থাক,  তারা ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের হাজিরই করতে পারেনি।
অবিলম্বে নির্বাচনের নামে এই প্রহসন বাতিল,  সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ একটি সরকারের অধীনে সকলের অংশগ্রহনে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছার জন্যও সরকারের প্রতি আহবান জানান বেগম জিয়া।