পুলিশ খুন করে জঙ্গি ছিনতাইয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যুবলীগ নেতা আতাউর রহমান কামাল ওরফে যুবরাজ ও ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা রয়েছেন বলে ধারণা করছে র্যাব ও পুলিশ। জঙ্গি ছিনতাই মিশনে যারা অংশ নিয়েছিল তাদেরকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে এমন অভিযোগে ইসলামী ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার কর্মকর্তা ইলিয়াস উদ্দিনকে আটক করেছে র্যাব।
এদিকে গত বুধবার দুপুরে র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জঙ্গি ছিনতাইয়ের মিশনে অংশগ্রহণকারী অন্যদের সঙ্গে তাকেও হাজির করা হয়। আতাউর রহমান কামালের বাবা ভালুকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও স্থানীয় উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেছেন, আমার সন্তানকে নিয়ে যা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার।
অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ময়মনসিংহ শাখা এবং ইসলামী ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন নিয়মিত অফিস করেছেন ইলিয়াস। জঙ্গি ছিনতাইয়ের দিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরও রয়েছে ইলিয়াস আলীর। তাদের দাবি, জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় অংশগ্রহণ করেনি ইলিয়াস। ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যে দোটানায় পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অন্যদিকে আটককৃতদের একজন ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, ভালুকা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান কামাল ওরফে যুবরাজের নির্দেশে জঙ্গি ছিনতাইয়ে অংশগ্রহণ করেছিল তারা। একদিকে ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা অন্যদিকে সরকার দলীয় অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় নেতার সংশ্লিষ্টার বিষয় নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়েছে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সব বিষয় মাথায় রেখে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনাটি গুরুত্বসহ তদন্ত করা হচ্ছে। যে দলই করুক না কেন ঘটনার সাথে কোনো ধরণের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
জঙ্গিদের আর্থিক লেনদেনে ইসলামী ব্যাংক কোনো ধরণের সহায়তা প্রদান করছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সদস্যরা।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে এক পুলিশ কনস্টেবলকে হত্যা করে দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ জঙ্গি সালাহউদ্দিন ওরফে সালেহীন, বোমা মিজান ও রাকিবকে ছিনিয়ে নেয় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সশস্ত্র ক্যাডাররা।
র্যাব সদর দপ্তর থেকে সাংবাদিকদের দেয়া তথ্যমতে, ভালুকা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান কামাল ওরফে যুবরাজের নির্দেশে ছিনতাই হওয়া জঙ্গিদের পালিয়ে যেতে স্বশরীরে সহায়তা করেন কয়েকজন। তারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এসব ঘটনার সাথে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করেছে।
ইসলামী ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার ইলিয়াস উদ্দিনের (৩৪) নামও প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে র্যাব। সে দাবির ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে।
র্যাবের হাতে আটক অন্যরা হলেন, ময়মনসিংহ হোমিওপ্যাথিক কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইউসুফ আলী সোহাগ (১৮), স্থানীয় গণজাগরণ টিউটোরিয়াল কোচিং সেন্টারের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন সবুজ (৩৫), সহকারী শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক স্বপন (২৮) এবং ভালুকা উপজেলার পানিবান্দা গ্রামের বছির, মোর্শেদ ও সোহেল।
তবে শুক্রবার আটক আতাউর রহমান কামালের বাবা ভালুকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও স্থানীয় উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেছেন, ‘আমার সন্তানকে নিয়ে যা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার, অসত্য এবং আমার ছেলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা ধ্বংস করার গভীর চক্রান্ত।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সন্তানের সব কাজের দায়িত্ব নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, আমার ছেলে সম্পর্কে অভিযোগের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।’
অন্যদিকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনার দিন ইলিয়াস আলী যথারীতি অফিস করেছেন বলে জানিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার ম্যানেজার বশির আহমেদ। তিনি টাইম নিউজবিডিকে জানান, ইলিয়াস আলীকে এধরণের ঘটনার সাথে জড়ানোর কোনো কারণ নেই। কারণ তিনি জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনার দিন অফিস করেছেন। এমনকি অফিসের হাজিরা খাতায় তাঁর স্বাক্ষরও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ওই অফিসার অফিস করেছেন। তাকে অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে তার নিজের চেয়ারে বসেই। কাস্টমাররা তার কাছ থেকে সার্ভিসও পেয়েছেন। অফিস ফাঁকি দিয়ে অন্য কোথাও যাবার সুযোগ ইসলামী ব্যাংকে নেই বলে জানান তিনি।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ইসলামী ব্যাংকের হেড অব পিআরও আতাউর রহমান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, কিছু একটা হলেই ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা খোঁজা ঠিক নয়। ইসলামী ব্যাংক কখনো জঙ্গি তৎপরতায় অর্থায়ন করেনি। বিষয়টি আমলে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সুষ্ঠু তদন্ত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জঙ্গী সংশ্লিষ্টার বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মাজেদুর রহমান বলেন, জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগাম কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষ হতে আরও মাস খানেক লেগে যেতে পারে। তদন্ত শেষেই এব্যাপারে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হবে।
র্যাবের মিডিয়া উইং এর পরিচালক কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান টাইমনিউজবিডিকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে আমরা ইলিয়াস আলীর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। তদন্ত শেষ হলে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত তথ্য মিডিয়ার মাধ্যমে জানানো হবে।
[b]ঢাকা, জেইউ, ০৪ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এসআর[/b]
শ্রেণীহীন
যুবলীগ ও ব্যাংক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা খুঁজছে গোয়েন্দা
পুলিশ খুন করে জঙ্গি ছিনতাইয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যুবলীগ নেতা আতাউর রহমান কামাল ওরফে যুবরাজ ও ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা রয়েছেন বলে ধারণা করছে র্যাব ও পুলিশ। জঙ্গি ছিনতাই মিশনে যারা অংশ নিয়েছিল তাদেরকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে এমন অভিযোগে ইসলামী ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার কর্মকর্তা ইলিয়াস উদ্দিনকে আটক করেছে র্যাব





