ঢাকা: ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার । তবে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে কেউ সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের সহকারী কর কমিশনার বরাবর আবেদন করলে নির্ধারিত সময়ের পরও বিবরণী জমা নেয় এনবিআর। এর আগে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার সময় তিন দফায় তিন মাস বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে পুরনো করদাতারা নতুন পদ্ধতির টিআইএনের জন্য পুনরায় নিবন্ধনের (ই-টিআইএন) সময় আরও তিন মাস অর্থাৎ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে আয়কর বিবরণী দাখিল করতে হয়। এ বিষয়ে এনবিআরের আয়কর অনুবিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সময় বাড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই। তবে এরপর কোনো করদাতা চাইলে সময়ের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে চলতি বছর এনবিআর সব করদাতার জন্য অনলাইনে কর নিবন্ধন পদ্ধতি (ই-টিআইএন) চালু করে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত (আজ মঙ্গলবার) ই-টিআইএন নিবন্ধনের শেষ সময় হলেও এটি আরও তিন মাস বাড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য একটি চিঠি এনবিআর রোববার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা যায়, আশানুরূপ আয়কর বিবরণী জমা না পড়ায় তিন দফা আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৩-১৪ করবর্ষে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। স্বভাবিকভাবে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের পূর্ববর্তী বছরের আয়ের হিসাব পরবর্তী বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দিতে হয়।
এনবিআর আশা করেছিল চলতি করবর্ষে অন্তত ১২ লাখ আয়কর বিবরণী জমা পড়বে। কিন্তু উল্লেখিত সময়ে ৮ লাখের কিছু বেশি রিটার্ন জমা পড়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনলাইনে কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিবন্ধন, পুনঃনিবন্ধন জটিলতার কারণে আয়কর বিবরণী এবার কম জমা পড়ছে বলে মনে করছে এনবিআর।
আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, টিআইএনধারীদের বার্ষিক রিটার্ন বা আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে বিভিন্ন কর অফিস থেকে প্রায় ১৭ লাখ টিআইএন ইস্যু করা হয়েছে। অর্থাত্ দেশের টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ।
এদের সবার আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। আর আয়কর বিবরণী জমা না দিলে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে আয়কর অধ্যাদেশে। নির্ধারিত সময়ে আয়কর বিবরণী জমা না দিলে এককালীন এক হাজার টাকা এবং পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য বাড়তি ৫০ টাকা হারে জরিমানা করা হবে।





