দশম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী যেসব প্রার্থী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন স্বজনপ্রীতি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দেয়নি তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও রয়েছেন। কিন্তু এসব ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে অন্য প্রার্থীদের নামে কেন রিটানিং কর্মকর্তাকে মামলা করতে বলা হয়েছে তা জানতে চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কয়েক জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসি সূত্র জানায়, কয়েকজন প্রার্থীর ইসিতে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে,
দশম সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ হয়েছে গত ৮ জানুয়ারি। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার শেষ সময় গত ৭ ফেব্রুয়ারি। ২৩ জন প্রার্থী ৭ ফেব্রুয়ারির পর নির্বাচনের ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন। আর ১০ জন প্রার্থী নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি। আইন অনুযায়ী,৭ ফেব্রুয়ারির পর যারা হিসাব জমা দিয়েছে,সবার বিরুদ্ধেই মামলা করার কথা। কিন্তু নির্বাচন কমিশন স্বজনপ্রীতি করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে বাকিদের বিরুদ্ধে রিটানিং কর্মকর্তাকে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে। যা আইন বর্হিভুত। তাই প্রধান নির্বাচন কমিশানারের (সিইসি) কাছে আমাদের আহ্বান, আইন সবার জন্য সমান। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের বাদ দিয়ে কেন আমাদের নামে মামলা করা হচ্ছে তা আমাদের জানা প্রয়োজন। ক্ষমতাসীনদের খুশি করতে তাদের নাম বাদ দিয়ে আমাদের মত অসাহায়দের বিরুদ্ধে মামলা করে দেখাতে চান দেশে দুই রকমের আইন চলছে?
সূত্র আরও জানায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারির পরে যারা হিসাব জমা দিয়েছেন তারা হলেন, ডেপুটি স্পিকার গাইবান্ধা-৫ আসনের মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, চিপ হুইফ পটুয়াখালী-২ আসনের আ স ম ফিরোজ হিসাব জমা দেন ৯ ফেব্রুয়ারি। এছাড়া সংসদ সদস্য ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের ইয়াসিন আলী, ভোলা-২ আলী আজম, সুনামগঞ্জ-১ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, কুমিল্লা-৩ ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, খুলনা-১ ননী গোপাল মন্ডল, চট্টগ্রাম-২ আসনে তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি ও চট্টগ্রাম-১১ এম আবদুল লতিফ, লালমনিরহাট-১ আসনের ছাদেকুল ইসলাম, লালমনিরহাট-৩ গোলাম মোহাম্মদ কাদের, ঝিনাইদহ-৩ কামরুজ্জামান স্বাধীন, ভোলা-২ মো. ছালাউদ্দিন, ময়মনসিংহ-৭ হাফেজ রুহুল আমিন, মুন্সিগঞ্জ-২ মো. আবদুল ওয়াদুদ, সুনামগঞ্জ-৩ আজিজুস সামাদ আজাদ, কুমিল্লা-১ আবু জায়েদ আল মাহমুদ, চট্টগ্রাম-২ নাজিম উদ্দিন, দিদারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আলী আহমদ নজির, আবু হানিফ, চট্টগ্রাম-১৩ তপন চত্রবর্তী এবং চট্টগ্রাম-৪ ও চট্টগ্রাম- ১৬ আসনের আ আ ম হায়দার আলী চৌধুরী ৯ফেব্রুয়ারি ব্যয়ের হিসাব জমা দেন।
এদের মধ্য থেকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালীদের নাম বাদ দিয়ে এরশাদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এরা হলেন, লালমনিরহাট-১ আসনে জাতীয় পার্টি-জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, শেরপুর-৩ জাসদের আবদুর রাজ্জাক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হেদায়েতুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৫ বিএনএফের মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন, বরিশাল-৪ আসনে জয়নাল আবেদীন, লক্ষ্মীপুর-১ জাপার মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জাপার বেলাল হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম শরিফ উদ্দিন। সুনামগঞ্জ-৩ আজিজুস সামাদ আজাদ, কুমিল্লা-১ আবু জায়েদ আল মাহমুদ, চট্টগ্রাম-২ নাজিম উদ্দিন, দিদারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আলী আহমদ নজির, আবু হানিফ, চট্টগ্রাম-১৩ তপন চত্রবর্তী এবং চট্টগ্রাম-৪ ও চট্টগ্রাম- ১৬ আসনের আ আ ম হায়দার আলী চৌধুরী। আর এদের মধ্যে কুমিল্লা-৫ আসনের সফিকুর রহমান (তার বিরুদ্ধে আরপিও অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে)।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে খুশি করতে নির্বাচন কমিশন প্রভাবশালীদের নাম বাদ দিয়ে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। কারন সরকারকে খুশি করতে পারলে বিভিন্ন দেশে ভ্রমনের ব্যবস্থা সুযোগ পাবেন। আর খুশি করতে না পারলে চাকুরি চলে যাবে। আর এ কারনেই ক্ষমতাসীনদের নাম বাদ দিয়েছে কমিশন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. শাহনেওয়াজ বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের পরে যারা দশম সংসদ নির্বাচনের ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে রির্টানিং কর্মকর্তাদের মামলা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন গত ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনটি নবম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই বর্জন করে। আওয়ামী লীগ ও সতন্ত্রসহ ১৭টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
দশম সংসদ নির্বাচনে ৫৪৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন । এছাড়াও ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
ঢাকা, এএম, ২৫ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর
এরশাদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ
দশম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী যেসব প্রার্থী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন স্বজনপ্রীতি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শপথ নিলেন মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নতুন দুই সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী মির্জা ফয়সল আমীন এবং সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে নির্বাচিত এলিজা জামান সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়: জামায়াত
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বলপ্রয়োগ ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করাকে বাস্তবতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি এসব ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শপথ পেছানোর চক্রান্ত ইসরাইলে আরব ভোট বাড়াতে কাতার-তুরস্কের অর্থায়নের অভিযোগ
ইসরাইলের নির্বাচনে আরব জনগোষ্ঠীর ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে কাতার ও তুরস্কসহ বিদেশি পক্ষগুলো অর্থ জুগিয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত। নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়ন ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ।
ঠাকুরগাঁওয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, উদ্বেগের কারণ নেই: ইসি সচিব
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেছেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দেওয়া হয়েছে বডিওন ক্যামেরা।
ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনে কারচুপি হলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ১১ দলের
আগামীকাল ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
















