বগুড়ায় গলাকেটে নিজের মেয়েকে হত্যা করেছে জন্মদাতা পিতা। বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় তার মেয়েকে হত্যা করেন তিনি।
মেয়েকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্যই নিজ ঘর থেকে ছুরি নিয়ে তাকে হত্যা করে রাগ মিটিয়ে নেন ক্ষুব্ধ বাবা।
বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শনিবার বিকেলে হাজির করা হলে নিজেকে মেয়ের হত্যাকারী হিসেবে উল্লেখ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন বাবা হযরত আলী। আদালতের বিচারক মো. আবুল কালাম আজাদ এ সীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নেন।
বগুড়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি/এ-সার্কেল) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ঘটনার পরদিন ৩০ মে রাত ৮ টার দিকে বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. মোজাম্মেল হকের সার্বিক নির্দেশনায় তার নেতৃত্বে গঠিত সদর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মালতীনগর শান্তিবাগ এলাকার নিহত হাসিনা খাতুনের (১৫) বাবা মো. হযরত আলীকে (৫০) আটক করে।
এর আগে কিশোরী হাসিনা খাতুন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বাবা ও মায়ের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেওয়ায় বাবা হযরত আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
তার দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে নিহতের বাবা হয়রত আলী (৫০) ও জেলার গাবতলী থানার জাইগুলি গ্রামের ফাইসলার ছেলে জমিরসহ (৩৫) দুইজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা (নম্বর:১০৩/৩১) করেন নিহতের মা মোছা. আমেনা বেগম(৪৫)।
পরবর্তীতে আটক হযরত আলীকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে সেখানে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি।
তিনি জানান, তার মেয়ে হাসিনা খাতুন এলাকার বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে প্রায়ই অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকতো এবং অবাধ্য হাসিনা মাঝে মধ্যে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যেতো। মেয়ের এরকম চলাফেরায় বাবা-মা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন।পাড়া প্রতিবেশী প্রায়ই মেয়ে দিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ড করানোর অভিযোগ এনে তাদের নিয়ে নানা কঠোর সমালোচনা করতো।
সম্প্রতি মেয়ে হাসিনা সন্ধ্যার পরে বাড়িতে না ফেরায় তাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য ঘর থেকে ছুরি নিয়ে তাকে খুঁজতে বের হন হযরত আলী। তার সঙ্গে একই এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক জমিরও (৩৫) ছিলেন।
নিহতের বাবা হযরত আলী জানান, খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ২৯ মে দিনগত রাত ১১ টার দিকে ওই এলাকার জনৈক জহিরের বাড়ির গলিতে কয়েকটি ছেলের সঙ্গে মেয়েকে দেখতে পান তিনি। এরপর সেখান থেকে মেয়েকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হন হযরত আলী।
এক পর্যায়ে বাড়ির ২০০ গজ দূরে জনৈক মো. ইসমাইলের ডোবার কাছে পৌঁছালে তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে মেয়ের পেটে আঘাত করেন। এতে কিশোরী মেয়ে হাসিনা একটি ডোবার মধ্যে পড়ে যায়। সঙ্গে থাকা সিএনজি অটো রিকশা চালক তাকে এতে বাধা দিলেও ক্ষুব্ধ হযরত আলী মেয়ের গলা কেটে ওই ডোবায় লাশ রেখে যান।
বাড়ি ফিরে স্ত্রী আমেনা বেগমকে ঘটনাটি জানিয়ে তা ফাঁস করতে মানা করেন।
শুক্রবার সকালে জেলা সদরের ভাটকান্দি সড়কে শান্তিবাগ এলাকায় একটি ডোবা থেকে হাসিনা খাতুনের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
[b]ঢাকা, ১ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ[/b]
শ্রেণীহীন
মেয়ের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য জবাই করলেন বাবা
বগুড়ায় গলাকেটে নিজের মেয়েকে হত্যা করেছে জন্মদাতা পিতা। বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় তার মেয়েকে হত্যা করেন তিনি। মেয়েকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্যই





