গাইবান্ধায় সাকার্সের মঞ্চ ভাঙ্গতে গিয়ে দু' নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে লাঞ্ছিত করেছে সন্ত্রাসীরা। রোববার বিকেল ৫টায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। লাঞ্ছিত ম্যাজিষ্ট্রেটরা হলেন, শরিফ আহমেদ ও মেজবাউল হক।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৫টার দিকে ওই দুইজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বামনডাঙ্গা আব্দুল হক ডিগ্রি কলেজ মাঠে দি লায়ন সার্কাসের মঞ্চ ভাঙ্গতে যায়। সার্কাস প্রদর্শনী চলাকালে প্যাণ্ডেলের ভেতরে ঢুকে প্রদর্শন বন্ধ করার নির্দেশ দেন ম্যাজিষ্ট্রেট।
এতে আয়োজকরা ক্ষুব্ধ হয়ে দুই ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘেরাও করে রাখে। এক পর্যায়ে দুই জন ম্যাজিষ্ট্রেটসহ পুলিশকে সার্কাস প্যাণ্ডেল থেকে বের করে দেয় সন্ত্রাসীরা।
জেলা প্রশাসক এহছানে এলাহীর দাবি বামনডাঙ্গা কলেজ মাঠে অবৈধভাবে সার্কাস প্রদর্শনীর খবর পেয়ে সেটি ভাঙ্গার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়। কিন্তু স্থানীয় আয়োজকরা দুই ম্যাজিস্ট্রেটকে লাঞ্ছিত করেছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম অবশ্য, ম্যাজিস্ট্রেটকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেই সময় আমি কলেজেই ছিলাম। হৈ চৈ শোনার পরে লোকজন পাঠিয়ে ওই ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে উদ্ধার করে অধ্যক্ষের কক্ষে নিয়ে আসি।  
এ দিকে সার্কাসের আয়োজক বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শমেস উদ্দিন বলেন, গত ১৮ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত সার্কাস প্রদর্শনের জন্য লিখিত অনুমতি দেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু অনুমতির মেয়াদ শেষ না হতেই ওই দুই ম্যাজিস্ট্রেট প্রদর্শন বন্ধ করতে বললে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসকের তহবিলে (এলআর ফান্ড) ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সার্কাসের অনুমতি নিয়েছি বলেও দাবি করেন তিনি। প্রতিদিন ওই তহবিলে ১০ হাজার করে টাকা দিতে হয়।
বর্তমানে প্রশাসনের লোকজন অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে অপারগতা জানালে জেলা প্রশাসক মঞ্চ ভেঙ্গে দিতে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠান। অথচ জেলায় দশ থেকে বারটি স্থানে সার্কাস, যাত্রা, হাউজি ও জুয়া চললেও সেগুলো ভাঙ্গা হচ্ছে না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন জেলা প্রশাসক।
[b]ঢাকা, ২৬মে,(টাইমনিউজবিডি.কম)//এএইচ[/b]