চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কথা থাকলেও তা এখনো শুরু করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও তা শুরু করতে আর কতদিন লাগবে সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না ইসি কর্মকর্তারা।
ভোটার তালিকা আইন-২০০৯-এর ১১ নম্বর ধারা ও ভোটার তালিকা বিধিমালার ৩৩ নম্বর বিধি অনুযায়ী, প্রতিবছর ২ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তালিকা হালনাগাদ করার বিধান রয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, বিগত নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করেন। এর পর থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে তালিকা হালনাগাদ কাজ সম্পন্ন করা হয়। এর মধ্যে তারা স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনও সম্পন্ন করা হয়।
আর দায়িত্ব ছাড়ার সময় বিগত কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা রেখে যান। এ প্রস্তাবে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ের পরবর্তে বছরের যে কোন সময় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার আইন সংশোধন করা উচিত বলে উল্লেখ করা হয়। তাদের এ প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি ছিল, নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই বছরের যে কোন সময় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা যায়।
কিন্তু ২০১২ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান কমিশন ১৩ মে (২০১২) এক বৈঠকে বিগত কমিশনের ওই প্রস্তাবটি আমলে না নিয়ে বিদ্যমান আইনটি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিগত কমিশনের দেয়া প্রস্তাব প্রত্যাখান করে হাক-ডাক দিলেও নিদিষ্ট সময়ের একবছরও ভোটার তালিকা হালনাগাদ কাজ শুরু করতে পারেনি বর্তমান কমিশন । এমনকি চলতি বছরেও (২০১৪) তা পারেনি।
নির্দিষ্ট সময়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে না পেরে চলতি বছর একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে বর্তমান কমিশন। এতে বলা হয়ছে, সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের কারণে জানুয়ারিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় আগামী দুএক মাসের মধ্যে তিন ধাপে ভোটার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব কমিশন বৈঠকে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, বিগত কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে। আর বর্তমান কমিশন বাড়ি বাড়ি না গিয়ে প্রতি ইউনিয়নে একটি করে ভোটার নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। আর যেসব পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সেগুলোয় একটি এবং এর বেশি ওয়ার্ডের পৌরসভার ক্ষেত্রে দুটি ভোটার নিবন্ধনকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় একটি এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে ভোটার নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের কারণে জানুয়ারিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে শিগগিরই নকমিশনের বৈঠকেই নেওয়া হবে।
বিগত ২০১২ সালের ১০ মার্চ ভোটার তালিকা হালনাগাদে কার্যক্রম শুরু হয়ে ১৫ ডিসেম্বর কার্যক্রম শেষ হয়। এ ভোটার তালিকা হালনাগাদে ৬৯ লাখ ১৮ হাজার নতুন ভোটার অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। আর বর্তমান মোট ভোটার সংখ্যা ৯ কোটি ১৯ লক্ষ ৪৮ হাজার ৮৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ কোটি ৬১লাখ ১১ হাজার ৮শত ৮০জন।
[b]ঢাকা, ২০ এ্রপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]
শ্রেণীহীন
ভোটার তালিকা হালনাগাদে পিছিয়ে পড়ছে ইসি
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কথা থাকলেও তা এখনো শুরু করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও তা শুরু করতে আর কতদিন লাগবে সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না ইসি কর্মকর্তারা





