[b]ঢাকা:[/b] সর্বাত্মক চেষ্টা স্বত্বেও বিএনপিকে নির্বাচনে আনা সম্ভব হয় নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় জাতির উদ্দেশ্যে বিটিভিতে দেওয়া নির্বাচনী এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এ কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আপনারা দেখেছেন, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য। ২০১০ সাল থেকে বারবার আমি বিএনপি নেত্রীকে আহবান জানিয়েছি আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতার পথে এগিয়ে আসতে।
নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে স্বরাষ্ট্রসহ যেকোন মন্ত্রণালয় দিতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আমি নিজে টেলিফোন করে বিরোধীদলীয় নেতাকে সংলাপের আহবান জানিয়েছি। তিনি সংলাপের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে সংঘাতের পথ বেছে নিয়ে বারবার আলটিমেটাম দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করে বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, জনগণের উপর আস্থা রেখে প্রধান বিরোধীদল নির্বাচনে অংশ নেবে। তারই দেয়া প্রস্তাব অনুযায়ী আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে কয়েকদফা বৈঠক করেছেন। কিন্তু আমাদের আন্তরিক চেষ্টা সত্ত্বেও বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নাই।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় আরও বলেন,গণতন্ত্রের প্রধানতম শর্ত হচ্ছে জনগণের ক্ষমতায়ন। আজ নিজেদের পছন্দের সরকার গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জনগণের এই অধিকার হরণ করা হয়েছিলো।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন,শুধু নির্বাচন বয়কটই নয় তারা হরতাল ও অবরোধের নামে মানুষকে জিম্মি করে সন্ত্রাস ও নাশকতা সৃষ্টি করেছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদে আগুন দিয়েছে। পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে। মলোটভ ককটেল আর পেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। পুলিশ, বিজিবিসহ অনেককে হত্যার শিকার হতে হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, লুঠতরাজ করেছে। রাস্তা কেটে, রেল লাইন উপড়ে ফেলে, গাছ কেটে জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী জোরারোপ করে বলেন,একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার শপথ নিয়েছিলাম। তাই, সাংবিধানিকভাবেই আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী অতীত নির্বাচনী ইতিহাস টেনে বলেন, কারচুপি, জবরদখল, অর্থ ও পেশিশক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে গত ৩৮ বছরে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন,অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাদখল আর জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অসুস্থ ধারাকে চিরতরে বন্ধ করার জন্য জাতীয় সংসদ বিশ্বের অন্যান্য সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশের মতোই একটি স্থায়ী নির্বাচনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, কোন অনির্বাচিত ব্যক্তির অধীনে নয়।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আরও উল্লেখ করেন, ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ছাত্রছাত্রীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। আমি ওয়াদা করেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।
৪ হাজার ৫শ' ১৬টি ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সব জেলায় ই সার্ভিস সেন্টার চালু করেছি। মোবাইল ব্যাংকিং, মোবাইল স্বাস্থ্য সেবা, ই কমার্স চালু করেছি। মোবাইল ফোনে থ্রি জি চালু হয়েছে। অচিরেই ৪ জি সংযোগ চালু হবে।
তিনি বলেন, ১১ মোবাইল সিম ব্যবহার হচ্ছে বাংলাদেশে। ভাষণে তিনি আর্ন্তজাতিক অর্জন হিসেবে আর্ন্তজাতিক সমুদ্র জয়ের কথাও উল্লেখ করেন।





