কনফারেন্স অন ইন্টারনেশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার ইন এশিয়া (সিআইসিএ) সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফরে যাওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির আবদুল হামিদের। আগামী ২০শে মে দু’দিনের ওই আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন চীনের শাংহাইতে অনুষ্ঠিত হবে।
পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টকে ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনফিং। আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র ঢাকায় পৌঁছার পর সফর প্রস্তুতিও শুরু করেছিল পররাষ্ট্র দপ্তর। কিন্তু সমপ্রতি সেই প্রস্তুতি ‘স্থগিত’ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা মতে সফরটি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হলেও বাস্তবে এটি বাতিলই হয়ে যাবে। ওই সংস্থায় বাংলাদেশ এখনও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র। যদিও গত শীর্ষ সম্মেলনে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি অংশ নিয়েছিলেন। এক কূটনীতিকের মতে, ওই শীর্ষ সম্মেলনে পর্যবেক্ষক একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি ঠিক ‘মানানসই’ হবে না- সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে এমন উপলব্ধির পর সব প্রস্তুতি স্থগিত করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের চীন সফর না হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিপক্ষীয় সফরে পেইচিং যাচ্ছেন। সফরের আনুষ্ঠানিকতা এখনও শুরু হয়নি, তবে আগামী ৬ই জুন চীনের খুনমিংয়ে একটি প্রদর্শনী উদ্বোধনের আমন্ত্রণ রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ইউননান প্রদেশের গভর্নর ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রীকে সেই আমন্ত্রণ জানিয়ে গেছেন।
পেইচিং-ও চাইছে প্রধানমন্ত্রী যাতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি বাজেট কেন্দ্রিক ব্যস্ততা থাকলেও পেইচিং ও খুনমিং কর্তৃপক্ষের আগ্রহে প্রধানমন্ত্রী সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খুনমিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে পেইচিংয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরেরও একটি প্রস্তাবনা রয়েছে। ‘দ্বিপক্ষীয় সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র এখনও ঢাকায় পৌঁছেনি’ জানিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, ঢাকা প্রস্তুত রয়েছে। চীন সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলে খুনমিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেইচিং সফরে যেতে পারেন। এদিকে চীন সফরের আগেই প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরে যাচ্ছেন। আগামী ২৫শে মে তার টোকিও সফরে যাওয়ার দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে। সেখানে ২৭শে মে পর্যন্ত অবস্থান করবেন তিনি।
গত মাসে ঢাকা সফর করে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনো আবে’র তরফে প্রধানমন্ত্রীকে টোকিও সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে গেছেন। তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর একটি আমন্ত্রণপত্রও হস্তান্তর করেন। সফরের প্রস্তুতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, এককভাবে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সহায়তা দানকারী জাপানের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও বাড়াতেই প্রধানমন্ত্রীর এ সফর। সুনির্দিষ্টভাবে ওই সফরে বাংলাদেশ কি অর্জন করতে চায় তা এখনও চূড়ান্ত না হলেও কূটনৈতিক সূত্রের দাবি দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। তাছাড়া ঢাকা-টোকিও পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ফরেন অফিস কলসালটেশন বা এফওসি, কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। ২০১০ সালের ২৮শে নভেম্বর থেকে ২রা ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বশেষ জাপান সফর করেন।
[b]ঢাকা,১১ মে (টাইম নিউজ বিডি)/কেএ[/b]
শ্রেণীহীন
রাষ্ট্রপতির চীন সফর ‘স্থগিত’
কনফারেন্স অন ইন্টারনেশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার ইন এশিয়া (সিআইসিএ) সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফরে যাওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির আবদুল হামিদের। আগামী ২০শে মে দু’দিনের ওই আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন চীনের শাংহাইতে অনুষ্ঠিত হবে





