ঢাকা: সোমা আক্তার। বয়স ১৭। রাজধানী মিরপুরের ১২ নম্বর সেকশনে একটি ছোট্ট ঘরে বাবা মায়ের সাথে তার বসবাস। সি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাসায় সোমারা আজ বেশ কয়েক বছর ধরে বসবাস করছে।
তিন-ভাই বোনের মধ্যে সোমার অবস্থান দ্বিতীয়। সোমা, সোমার বড় ভাই সুমন এবং ছোট বোন এই নিয়ে বাবা মায়ের সাথে তাদের সুখের সংসার। বাসার কাছেই বাবা হারুন-উর রশিদের ছোট্ট একটি ওষুধের দোকান। যতটুকু আয়, ততটুকুই ব্যয়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1388997524.jpg[/img]
একেবারেই সাদাসিদে পরিবারটিতে ছিল না কোন জাকজমকের ছোঁয়া। কিন্তু সবাই মিলে চেয়েছিলেন একটি সুখী পরিবার গড়তে।
নিয়তির নির্মম পরিহাস। তিন ভাই-বোনের মধ্যে বড় ভাই সুমনের শরীরে ধরা পড়ে ভয়াবহ থ্যালাসেমিয়ার জীবানু।
বেশ কয়েক বছর মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবেশেষে হেরে যায় সোমার ভাই এবং পরিবারের একমাত্র পুত্র সন্তান সুমন। ২০০১ সালের ২৪ নভেম্বর পরিবারটিতে যেন বয়ে যায় এক ঝড়। সুমনকে হারিয়ে পিতা হারুন-উর রশিদ যেন ভবিষ্যতের একমাত্র সম্বলটি হারিয়ে ফেলেন।
কিন্তু এরপরও শোকের পাথর বুকে চাপা দিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে পথ চলা শুরু করেন তিনি। এবারও নিয়তির কাছে পরাস্ত হলেন বাবা।
একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোক কাটতে না কাটতে আরেক মেয়ে সোমাকে আক্রান্ত করে বসলো থ্যালাসেমিয়ার জীবানু। তখন থেকেই অর্থাৎ ২০০১ থেকে চলছে চিকিৎসা। এরইমধ্যে গ্রামের বাড়িতে সহায় সম্পত্তি যা ছিল সবই বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে আসছেন বাবা হারুন-উর রশিদ।
প্রতি সপ্তাহে দামি ইনজেকশান থেকে শুরু করে আনুসঙ্গিক অন্যান্য ওষুধসহ মেয়ের পেছনে প্রতি সপ্তাহে খরচ করতে হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা।
একবারে ২০ লাখ টাকা হলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে গিয়ে অপারেশন করিয়ে আনতে পারলেই সোমা বাকি জীবনটা স্বাভাবিকভাবে কাটাতে পারতো। কিন্তু সেই সামর্থ নেই গরীব বাবার।
ধীরে ধীরে সোমা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলছে। কারণ প্রতি সপ্তাহে ইনজেকশান দেয়াসহ ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা চালানো গরীব বাবার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।
হয়তো অচিরেই সোমারও ঠিকানা হবে বড় ভাই সুমনের কাছে। ছেলে-মেয়ে দুজনকেই না ফেরার দেশে পাঠানোর শোক সইবার প্রস্তুতিই হয়তো বা নিচ্ছেন সোমার গরীব বাবা-মা।
সোমাকে সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা:
মো: হারুন-উর-রশিদ
এস-বি নং-২১১-১০১-৫৮৮০৩
ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড
মিরুপুর শাখা, ঢাকা
মোবাইল: ০১৭৬২-১৭৪৪০৪
কয়েকটি স্বাস্থ্য টিপস:
বাবা মা যে কোন একজনের শরীরে থ্যালাসেমিয়ার জীবানু থাকতে পারে, তাতে সন্তানের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু থ্যালাসেমিয়ার জীবানু যদি পিতা-মাতা দুজনেরই শরীরে থাকে তাহলেই তাদের সন্তানদের এই জটিল রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি প্রবল। এর অপারেশন এখনো বাংলাদেশে সম্ভব না। তাই এই রোগ থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচানোর আপাতত সহজ উপায় হচ্ছে বিয়ের পূর্বে অবশ্যই ছেলে এবং মেয়ে উভয়কে ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে দেখতে হবে তাদের শরীরে থ্যালাসেমিয়ার জীবানু আছে কীনা।
হয়তো বা আনুষ্ঠানিকভাবে এভাবে পরীক্ষা করাতে কেউ একটু বিব্রতবোধ করতে পারেন এই ভেবে যে যদি নিজ শরীরে এই জীবানু থাকে তাহলে সবাই জেনে যাবে।
এক্ষেত্রে যে কেউ নিজ উদ্যোগে আগে ভাগেই কাউকে না জানিয়ে নিজেই কোন ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করে জেনে নিতে পারেন নিজ সম্পর্কে। দেশের অনেক হাসপাতালেই সামান্য কয়েকশো টাকা ব্যয়ে এই পরীক্ষা করা সম্ভব।
যদি কোন ছেলে বা মেয়ে নিজেকে থ্যালাসেমিয়ামুক্ত পান, তাহলে বিবাহের সময় অপরপক্ষের কাছ থেকে এ ব্যাপারে কোন তথ্য জানারই দরকার নেই। শুধুমাত্র নিজেকে আক্রান্ত পেলেই কেবল বিবাহের সময় একটু সতর্ক হতে হবে।
২০১২ সালের এক জরিপে দেখা যায় যে, প্রতিবছর সারা বিশ্বে প্রায় নয় লাখ শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। বাংলাদেশে এর সংখ্যা হচ্ছে আনুমানিক ১০ হাজার। আসুন সবাই মিলে একটু সচেতন হই, পরবর্তী প্রজন্মকে এই রোগ থেকে মুক্ত রাখতে সচেষ্ট হই।
শ্রেণীহীন
থ্যালাসেমিয়ায় সর্বশান্ত একটি পরিবারের গল্প এবং কয়েকটি জরুরী টিপস
সোমা আক্তার। বয়স ১৭। রাজধানী মিরপুরের ১২ নম্বর সেকশনে একটি ছোট্ট ঘরে বাবা মায়ের সাথে তার বসবাস। সি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাসায় সোমারা আজ বেশ কয়েক বছর ধরে বসবাস করছে। তিন-ভাই বোনের মধ্যে সোমার অবস্থান দ্বিতীয়।





