অপহরণের ১০০ দিনেও খোঁজ মেলেনি ফাহাদ চৌধুরীর। চট্টগ্রামের পাথর ব্যবসায়ী ফাহাদ চৌধুরীকে ঢাকা থেকে অপহরণের শততম দিন পূর্ণ হলো গতকাল শুক্রবার। এত দিনেও তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি। অপহরণকারীরা মুক্তিপণও চায়নি। এতে ফাহাদের পরিবারের সন্দেহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই তাঁকে অপহরণ করেছে।
ফাহাদ বেঁচে আছেন, এমন কোনো তথ্য এত দিনেও দিতে পারেনি পুলিশ।অথচ, ফাহাদ ফিরে আসবেন, এমন আশায় এখনও প্রহর গুনছেন তাঁর বৃদ্ধ মাসহ পরিবারের সদস্যরা।
যদিও পুলিশ বলছে, ব্যবসায়ী ফাহাদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত আছে। স্বজনেরা বলছেন, পুলিশের তেমন তৎপরতা নেই। তদন্তে কোনো অগ্রগতিই নেই।
র‌্যাব পুলিশ পরিচয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে অপহরণের ছয় দিন পর কুমিল্লায় উদ্ধার হন নগরের হাজারী লেনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরী। পরে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তাঁর দায়ের করা ৮০ ভরি স্বর্ণ লুটের মামলায় ফাহাদকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। এ মামলার ১ নম্বর আসামি র‌্যাব-২-এর কর্মকর্তা মেজর রকিবুল আমিন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার মতিঝিল কমলাপুর বালুর মাঠ এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা কিছু লোক মাইক্রোবাস ও একটি নিশান পেট্রোল গাড়িতে করে ফাহাদকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পরদিন ফাহাদের ভাই কামরুজ্জামান ঢাকার মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে একই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণ মামলা করা হয়। ফাহাদের বাড়ি নগরের হালিশহর এলাকায়। তাঁর পাথরের ব্যবসা রয়েছে।
ফাহাদকে উদ্ধারে কোনো অভিযান চালানো হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিঝিল থানার এসআই বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমরা কাজ করছি।’
ফাহাদকে জীবিত উদ্ধারের দাবি জানিয়ে তাঁর বড় ভাই কামরুজ্জামান বলেন, ‘মৃদুল চৌধুরীর দায়ের করা মামলার আসামি আমার ভাই। মৃদুল উদ্ধার হওয়ায় আমরা মনে করছি, আমার ভাইকেও একই দল অপহরণ করে। আমার ভাইকে জীবিত ফেরত চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভাইকে অপহরণের ঘটনায় করা মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তের জন্য ১৬ মার্চ ডিএমপি কমিশনারের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো ফল পাচ্ছি না।’
[b]ঢাকা, ২৬ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এনএস[/b]