[b]ঢাকা: [/b]দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার খরা হয়েছে। হাজারো নিশ্চয়তা দেয়ার পরও ভোট কেন্দ্রে যায়নি ভোটাররা। শুধু বিরোধীদলের ভোটাররাই নয়, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটাররাও যায়নি। এর প্রমাণ পেয়েছে ভোটারবিহীন নির্বাচনেই।
ভোটররা ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে না গেলেও জাল ভোট দিতে কার্পন্ন করেনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এই খাতায় নাম লিখিয়েছেন খোদ প্রশাসনের লোকেরাও। এমনি অভিযোগ করেছে অন্যান্য প্রার্থীরা এবং বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসাররা।
গতকালের নির্বাচনে ঢাকার উত্তরার দক্ষিণ খান দেওয়ানপাড়া মডেল স্কুল এন্ড কলেজে দেখা যায় উত্তরা থানা যুব লীগের সহ-সভাপতি বিএম শাহীনের নেতৃত্বে এবং পুলিশের এএসআই আব্দুল কুদ্দুসের সহযোগিতায় ভোটার না এমন একজন কিশোরকে দিয়ে নৌকা মার্কায় সীল মারাতেছিলেন।
সাংবাদিকরা ঢুকলে ওই ছেলে কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যেতে চাইলে তিনি ভোটার কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি কোন ভোটার না।
আপনি ভোট কেন্দ্রে ঢুকলেন কীভাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শাহীন মামা এবং কুদ্দুস স্যার আমাকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। তাদের কথায় আমি ব্যালট পেপারে সীল মারি। জানতে চাইলে কর্তব্যরত একজন প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, সারাদিনে আমাদের এই কেন্দ্রে মাত্র ৬টি ভোট পড়ে। এরপর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এসে জোর করে আরো ১৩টি ভোট দেয়। আমরা পেপার জমা দেয়ার পর জানতে পারি আমাদের এই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৬০০ অর্থাৎ প্রায় ৩০ শতাংশ, যদিও প্রকৃত ভোট পড়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389008533.jpg[/img]
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে যুব লীগ নেতা শাহিন কোন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সাংবাদিকদের রক্ত চক্ষু দেখায়।
তিনি আরো বলেন, আমরা আপনাদের কোন প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য নই।
এ ধরণের ভোট চুরির ঘটনা ঘটে প্রায় সব আসনেই। তারই ধারাবাহিকতায় দেখা যায় ঢাকা-৭, ৬, ১৫, ১৬ আসনে আওয়ামী লীগের বিপক্ষ প্রার্থীর পুলিং এজেন্ডদেরকে বের করে দেয়া হয়।
সরকারপন্থীদের এই ধরণের কর্মকাণ্ডের জন্য ২০জন স্বতন্ত্রপার্থীরা তাদের ভোট বর্জন করেছে।
ঢাকা- ১৫ আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী আলহাজ্ব এখলাসউদ্দীন মোল্লা বলেন, আমি ভোটেই দাঁড়াতে চাইনি। এলাকার লোকেরা আমাকে বলেছেন, আপনি(এখলাস) যদি ভোটে দাঁড়ান তাহলে আমরা ভোট কেন্দ্রে যাব। তারা গিয়েছিল কিন্তু সরকার দলীয় প্রার্থীর সন্ত্রাসের কারণে তার কেউই ভোট দিতে পারেনি। একারণেই আমি ভোট বর্জন করতে বাধ্য হয়েছি।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রশাসনকে জানিয়ে কোন প্রতিকার না পাওয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে দেখা করতে গেলে তার পিএ বলেন, স্যার এখন দেখা করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, সিইসি আমার সাথে দেখা না করলে আমি লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি। এরপরও আমি কোন ধরণের প্রতিকার না পেয়ে নির্বাচন বর্জনে বাধ্য হই।
প্রতিরোধ করা কোন উদ্দোগ নিয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি প্রতিরোধ করলে মার্ডার হতো, একারণে কোন প্রতিরোধ করিনি।
ঢাকা-৭ আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী হাজী মো. সেলিম বলেন, নির্বাচন কোনো ভাবেই সুষ্ঠু হয়নি। কারণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোট চুরি করেছে। তাছাড়া অনেকে আইড কার্ড ছাড়াও ভোট দিয়েছে।
নির্বাচন সফল এবং সুষ্ঠু হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,খুশি হওয়ার মতো নির্বাচন এটা নয়। কৌশলগত কারণে ১৯৮৬ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিয়েছিল। সেটি অংশগ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলেও শেষ পর্যন্ত ওই সংসদ বাতিল হয়েছিল। এর খেসারত দল দিয়েছিল ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে। রাজনীতি এক দিনের জন্য নয়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389010056.jpg[/img]
কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য বলেন,নির্বাচনে জনগণ সম্পৃক্ত হয় এবং সংগঠন এগিয়ে যায়। আর এ ধরনের নির্বাচনে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাঁর প্রশ্ন,এত উন্নয়নমূলক কাজ করার পরও সংগঠন জনপ্রিয়তা হারালো কেন?
অপর একজন নেতা বলেন,সরকার একটা নির্বাচন করতে চেয়েছিল। নির্বাচন হয়েছে,এতটুকুই।
সম্পাদকমণ্ডলীর একজন নেতা বলেন,এই নির্বাচন করা ছাড়া সরকারের অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। তাই বাধ্য হয়েই সরকারকে এটা করতে হয়েছে।
কয়েকজন নেতার মতে,একতরফা এবং ভোটারবিহীন নির্বাচন করার বদনাম ছিল জিয়াউর রহমান,এইচএম এরশাদ ও খালেদা জিয়ার। এবার ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কারণে অন্য দলগুলোর সাথে আওয়ামী লীগ একাকার হয়ে গেছে।
একজন কেন্দ্রীয় নেতা মনে করেন,বর্তমানে যে পরিস্থিতিতে একতরফা নির্বাচন করতে দল বাধ্য হয়েছে,সেই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য সরকারের কিছু ভুল নীতিই দায়ী।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর সার্বিক রাজনীতি কেমন হবে,তা নিয়ে দলের কোনো প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা ছিল না। যদি সে রকম কোনো পরিকল্পনা থাকত,দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে অগ্রসর হওয়া যেত,তাহলে এ অবস্থার মুখোমুখি হতে হতো না।
সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই নির্বাচনে যেহেতু জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, সে কারণে এই নির্বাচনকে কোন নির্বাচন বলা যায় না।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389009165.png[/img]
তিনি বলেন, এই সরকার আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলতে পারবে তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। এরপর আর বলতে পারবে না। কারণ এই নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করেছে।
নির্বাচন কেন সুষ্ঠু হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, যে নির্বাচনে প্রধন বিরোধীদলের অংশ গ্রহণ নেই। বিদেশী কোন পর্যবেক্ষণ নেই সে নির্বাচন সুষ্ঠু পাগল ছাড়া অন্য কেউই বলবে না।
তিনি বলেন, প্রধান বিরোধী দল অংশ গ্রহণ না করায় এই নির্বাচন সুষ্ঠু নয়, তাই না। আপনি লক্ষ করবেন নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার পেছনে আরো কারণ আছে। তাহলো প্রদান বিরোধীদলীয় নেতা এখন অন্তরীণ, দ্বিতীয় বিরোধীদলীয় নেতা হস্পিটালাইজড, তৃতীয় বিরোধীদলীয় নেতা গ্রেফতার। এভাবে দমন পীড়ন করলে নির্বাচনকে সুষ্ঠু হবে কী করে।
মান্না আরো বলেন, ৫ জানুয়ারি এমন একটি নির্বাচন হয়েছে যে নির্বাচনে ভোটের সংখ্যা অংকে লেখা হয়েছে, কথায় লেখা হয়নি। কারণ হলো আওয়ামী লীগ ও তার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনটিকে অর্থবহ করার জন্য কারচুপি করে বলবেন ৪০-৪৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। কিন্তু জনগণ গণমাধ্যমের মাধ্যমে সমস্ত কারচুপির কথা জেনে গেছে।
শ্রেণীহীন
ভোটারবিহীন কেন্দ্রে জাল ভোটারদের দৌরাত্ম্য, নিশ্চুপ প্রশাসন
ঢাকা: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার খরা হয়েছে। হাজারো নিশ্চয়তা দেয়ার পরও ভোট কেন্দ্রে যায়নি ভোটাররা। শুধু বিরোধীদলের ভোটাররাই নয়, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটাররাও যায়নি ভোটকেন্দ্রে। এর প্রমাণ পেয়েছে ভোটারবিহীন





