যশোর পুলিশের গুলিতে ছাত্রশিবির যশোর শহর শাখার সভাপতি জাহিদুল ইসলাম মণ্ডল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার শ্যামনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ শিবির নেতাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের এসআই আবুল খায়েরের দাবি করেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শিবির নেতা জাহিদুর ইসলামকে নিয়ে পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য যশোর সদর উপজেলার শ্যামনগর গ্রামে যায়। সেখানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শিবিরের কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি করে।
একপর্যায়ে শিবির নেতা জাহিদুল ইসলামের ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। এরপর সেখান থেকে একটি শুটারগান, এক রাউন্ড গুলি ও একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাস্টার নূরুন্নবী জানান, মঙ্গলবার ফজরের নামাজ শেষে জাহিদুল ইসলাম সাংগঠনিক কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে বাইরে বেরিয়েছিলেন। শহরতলীর চুরোমনকাটি এলাকায় গেলে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে।
মঙ্গলবার সকালে যশোর কোতোয়ালী থানার ওসি এমদাদুল হক শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’
এ ব্যাপারে যশোর ডিবি পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে দু’দিন ধরে ঢাকা আছি। যশোরের কোনো খবর আমার কাছে নেই।’
সকালে ডিবি পুলিশের এসআই খায়েরের নাম্বারে কয়েকদফা যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
একই দিন যশোর পুলিশের মুখপাত্র ও সদর সার্কেলের সিনিয়র এএসপি রেশমা শারমিন জানান, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা পুলিশ পাঁচজন জামায়াত-শিবির কর্মীকে আটক করেছে। এরা সবাই মণিরামপুরের। সদর উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের কেউ গ্রেফতার হয়নি।’
শিবির নেতা জাহিদুলের গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়। লেখাপড়া সূত্রে তিনি যশোর শহরে অবস্থান করতেন। যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কলেজ (এমএম কলেজ) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর জাহিদুল যশোর শহীদ মসিয়ূর রহমান আইন মহাবিদ্যালয়ে এলএলবি করছেন।
জাহিদুলের বাবা আবুল খায়ের মঙ্গলবার বিকেলে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, তার ছেলে কোনো অপরাধ করলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হোক।
[b]ঢাকা, ১৪ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]