[b]ঢাকা:[/b] শর্ত সাপেক্ষে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইউরোপে জিএসপির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এবারো শ্রমমান উন্নয়ন, শ্রমিক অধিকার, মানবাধিকার ও সুশাসনের শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইইউ। ইউরোপের জিএসপি নিয়ে করণীয় ঠিক করতে মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসছে বলে জানা গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এক চিঠির মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল ৯০টি দেশের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) বর্ধিত করেছে। ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হয়েছে, যা ২০১৭ সাল পর্যন্ত থাকবে।  ফলে স্বল্পমেয়াদে জিএসপি নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে জিএসপি বহাল থাকবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কিত সরকার।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশে রফতানিকারক সমিতি ও সংশ্লিষ্টরা এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের চারদিকেই কেবল খারাপ খবর। এর মধ্যে অবশ্যই এটি একটি বড় ধরনের ভালো খবর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেকদিন থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নেও জিএসপি সুবিধা বাতিলের আশঙ্কা চলছিল। সে কারণে পোশাক খাতসহ অন্যান্য খাতে এক ধরনের মানসিক চাপ বিরাজ করছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে জিএসপি সুবিধার সময়সীমা ২০১৭ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে, তা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য তাদের বড় ধরনের ছাড়। অন্যদিকে এ খাতের সংশ্লিষ্টরাও মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হলো।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার ক্ষেত্রে বরাবরের ন্যায় এবারো শ্রমমান উন্নয়ন, শ্রমিক অধিকার, মানবাধিকার ও সুশাসনের শর্ত দেয়া হয়েছে। ইউরোপের জিএসপি নিয়ে করণীয় ঠিক করতে আগামীকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসছে।
এ বিষয়ে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সহসভাপতি (অর্থ) রিয়াজ-বিন-মাহমুদ বলেন, ইইউ জিএসপি সময়সীমা বাড়িয়েছে, এটা আমাদের জন্য অবশ্যই একটি ভালো সংবাদ। তবে তাদের কিছু শর্ত রয়েছে। এসব নিয়ে সরকার ভাবছে। এ বিষয়ে ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
তথ্যমতে, বাংলাদেশসহ প্রায় উন্নয়নশীল ৯০টি দেশ অস্ত্র ছাড়া সব ধরনের পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। তবে এবারো মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে এমন ২০টি দেশের জিএসপি বাতিল হয়েছে।
জানা গেছে, ৯০ দশক থেকে বাংলাদেশ পুরোপুরি জিএসপি সুবিধা পাওয়া শুরু করে। এরপর থেকে কয়েক দফা বাড়ানো হলো। এবার ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অস্ত্র ছাড়া সব ধরনের পণ্য রফতানিতে বিশেষ সুবিধা পাবে।
এবার মালদ্বীপের জিএসপি সুবিধা বাতিল হয়েছে। তবে সামরিক শাসনের অবসান হওয়ায় মায়ানমারের জিএসপি পুনর্বহাল করেছে ইইউ। এ ছাড়া দারিদ্র্যপীড়িত দেশ দক্ষিণ সুদানকেও জিএসপি সুবিধা দিয়েছে ইইউ।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]