চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪৩ জেলার ৯১টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ বিরতি ছাড়াই চলবে বিকেল ৪টা পযর্ন্ত। আজ চলছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপ। এ উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এবারই প্রথম ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সেনাবাহিনী কয়েকটি নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্সের দায়িত্ব পালন করলেও সেনাবাহিনীর সামনে দৃশ্যমান কোনো সহিংসতা ঘটলে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন চলছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর; পটুয়াখালীর সদর, দুমকী, বাউফল, গলাচিপা ও মির্জাগঞ্জ; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, নাসিরনগর; কুমিল্লার মেঘনা ও বরুড়া; চাঁদপুরের শাহরাস্তি; ফেনীর সোনাগাজী ও ফুলগাজী; দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ ও ফুলবাড়ী; যশোরের সদর ও কেশবপুর, সাতক্ষীরার কলারোয়া, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, বাগেরহাট মোল্লারহাট ও চিতলমারী;  ভোলার তজুমুদ্দিন, দৌলতখান ও মনপুরা; বরিশালের
আগৈলঝাড়া, উজিরপুর ও বানরীপাড়া; গাজীপুরের কালিয়াকৈর।
ঢাকার ধামরাই, হবিগঞ্জের সদর, নবীগঞ্জ, আজমিরিগঞ্জ ও লাখাই; জয়পুরহাটের পাঁচবিবি; রাজশাহীর তানোর, বাগমারা ও পুঠিয়া;  ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, ফরিদপুর; ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ড; নড়াইলের নড়াইল সদর; খুলনার তেরখাদা, রূপসা, বটিয়াঘাটা, দাকোপ ও ফুলতলা; পিরোজপুর সদর, ভাণ্ডারিয়া, মঠবাড়ীয়া ও জিয়ানগর; টাঙ্গাইলের কালিহাতি, মধুপুর, নাগরপুর ও ভুয়াপুর।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, সিরাগঞ্জের চৌহালী, মৌলভীবাজার সদর শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ, নাটোরের বড়াইগ্রাম, শেরপুরের নালিতাবাড়ী, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, সুনামগঞ্জের শাল্লা ও ধর্মপাশা; চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, ঝালকাঠী সদর, কাঠালিয়া, নলসিটি ও রাজাপুর, বগুড়ার গাবতলী, নেত্রকোনা মদন, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, ইটনা, মিঠামাইন, তাড়াইল ও কটিয়াদি; বরগুনার বেতাগী; কক্সবাজারের রামু ও কুতুবদিয়া; বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি; রাঙামাটির জুড়াছড়ি, সিলেট সদর ও কানাইঘাট; চট্টগ্রামের বাঁশখালী, রাউজান, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, সাতকানিয়া ও আনোয়ারা।
এ নির্বাচনে এক কোটি ৩৮ লাখ ৫৯ হাজার ২৭৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৯ লাখ ৭ হাজার ৯৫৬ ও নারী ভোটার ৬৯ লাখ ৫১ হাজার ৩১২ জন।
চতুর্থ ধাপে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এক হাজার ১৮৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৮৯ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৮৫ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩১২ জন।
এ দফায় মোট ভোটকেন্দ্র পাঁচ হাজার ৮৮২টি। ভোট কক্ষের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৩৩৮টি। মোট কর্মকর্তার সংখ্যা এক লাখ ১৭ হাজার ৮৯৬ জন।
এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসারের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৮৮২ জন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের সংখ্যা ৩৭ হাজার ২৩৮ জন। পোলিং অফিসারের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৬৭৬ জন।
এছাড়া আচারণবিধি লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ৩৬৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৯১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ধাপে ধাপে নির্বাচনের সঙ্গে সহিংসতার মাত্র বেড়ে চলেছে। তবে চতুর্থ ধাপে এসে নড়ে চড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (ইসি)। সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ইসির পক্ষ থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক সাংবাদিকদের জানান, সশস্ত্রবাহিনীর এ ক্ষমতা বিচারিক ক্ষমতা নয়। আগে থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে তাদের যে ক্ষমতা রয়েছে তা শুধু স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী এবার সহিংসতা রোধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন।
‘এছাড়া ভোটের বাক্স ছিনতাই করার চেষ্টা করলে গুলির ব্যবহার করা হবে। কেউ ভোটে কালো হাত বাড়ালে তার কালো হাত গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’
[b]ঢাকা, ২৩ র্মাচ (টাইমনউিজবডি.কম)//এএইচ[/b]