বিষয়ে নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে রাখলেও নিজ নিজ দলের সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে আহামরি তেমন কিছু করেননি। ঠিক তাদের দাবির উল্টোটিই সত্য; চলমান সহিংসতার পেছনে দায়ভার তাদের উপরই বর্তায়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াভিত্তিক এসোসিয়েট জুলিয়া ব্লেকনার তার অভিমত তুলে ধরেছেন দ্য ডিপ্লোম্যাটে। ‘বাংলাদেশে’স স্ট্রেঞ্জহোল্ড ইলেকশন’ শিরোনামে তিনি আরও লিখেছেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্ক দেখিয়ে আসছেন। আর এখন তারা ব্যক্তিগত তিক্ত সম্পর্কের জন্য দেশকে রসাতলে নিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৩ সালে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের রাজপথে সহিংসতা আর ফলশ্রুতিতে পুলিশের বল প্রয়োগ- সবমিলিয়ে প্রায় ৩০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আর প্রাণের বলি দেয়া অধিকাংশই অসহায় সাধারণ মানুষ। জুলিয়া ব্লেকনার তার প্রতিবেদন শুরু করেন রাজপথের সহিংসতায় স্ত্রী-সন্তান হারানো নিরপরাধ এমন এক ব্যক্তির ঘটনা দিয়ে। পেট্রলবোমা বিভীষিকায় আদম আলীর ২ বছরের শিশু সন্তান আর তার স্ত্রী পুড়ে মারা যায় গত বছর ১০ই ডিসেম্বর। একটুখানি দয়া দেখানোর আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন। শেষরক্ষা হয়নি। কপালের জোরে প্রাণে বেঁচে গেলেও হারিয়েছেন স্ত্রী-কন্যাকে। এ আদম আলি শত শত বাংলাদেশীদের মধ্যে একজন যাদের জীবন বিপন্ন হয়েছে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায়। হরতাল অবরোধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে হরতাল সমর্থক আর সরকার সমর্থকদের মাঝে পড়ছেন তারা। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে কাজ করছে, যেন তারা জবাবদিহিতা থেকে মুক্ত। সহিংসতায় প্রাণ হারানো অধিকাংশই আদম আলির মত অসহায় সাধারণ মানুষ। যে দেশের অনেক মানুষ এখনও দৈনিক মজুরির উপর জীবিকা নির্বাহ করে, সে দেশে রাজনৈতিক দলগুলো শ্রমজীবীদের কাছে অদ্ভুত এক সিদ্ধান্ত ছুড়ে দিয়েছে। হয় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় বের হও অথবা পরিবারকে অনাহারে রাখো। বাংলাদেশের বর্তমান সহিংসতা মূলত ৫ই জানুরারি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা বাতিল করেন। অথচ বিরোধী দল থাকাকালীন তিনিই এ সরকার ব্যবস্থার জন্য লড়েছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে বিরোধী দলকে ছাঁটাই করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। কাজেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতা তার দলের জয়ী হওয়া নিয়ে কোন সংশয় ছিল না। বিএনপির নেতৃত্বে প্রধান বিরোধী জোট নির্বাচন বর্জন করেছে। আর জামায়াত নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ। ফলাফল- ৩০০ আসনের ২৩২টিতে আওয়ামী লীগের জয় যার মধ্যে ১৫৩ আসনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। তখন থেকে বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচিতে অসহায় হয়ে পড়ে পুরো দেশ। এদিকে আবার, শত শত বিরোধী সমর্থকদের আটক করা হচ্ছে। যার অধিকাংশই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফৌজদারি মামলায়; প্রকৃত কোন তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই। নাগরিক সমাজ বিপর্যস্ত, বিশৃঙ্খল। সাংবাদিকদের হয়রানি, গত বছর শুরুতে সরকার বিরোধী মিডিয়া বন্ধ করে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থা এবং শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরাও সরকারের নজরে পড়েছে। এটা কোন কার্যকর শাসন ব্যবস্থা নয় যা বাংলাদেশের মানুষদের কোন উপকারে আসবে। বরং, এটা শ্বাসরূদ্ধকর দখলদারি। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ঢালাও গ্রেপ্তার, হুমকি ধামকি, মিডিয়ার বাকরোধ আর মানবাধিকার সংস্থার হয়রানি। নির্বাচনের দিন কমপক্ষে ১৮ জন মারা গেছে। শত শত ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। দেড় কোটি মানুষের শহর ঢাকার রাস্তা ছিল ফাঁকা। নির্বাচন বর্জন করেই হোক আর হামলার ভয়েই হোক, ভোটাররা বাড়িতেই ছিল। শেখ হাসিনা নির্বাচনে হয়তো জিতেছেন কিন্তু তার নজরে আসা উচিত রাজনৈতিক গোলযোগ এখনও শেষ হয়নি। বাংলাদেশী নাগরিকদের অধিকার যেভাবে অবহেলিত হচ্ছে সে আলোকে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর উচিত চাপ সৃষ্টি করা যেন সকল বাংলাদেশীর অধিকারের উপর যথাযথ সম্মান প্রদর্শন নিশ্চিত হয়।
শ্রেণীহীন
সহিংসতার দায় বড় দু’দলের
ঢাকা: বাংলাদেশে নির্বাচন হয়তো শেষ হয়ে গেছে,কিন্তু নিশ্চিতভাবে গোলযোগের অবসান হয়নি। সরকারপক্ষ আর বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতারা জনসমক্ষে সহিংসতার





