[b]ঢাকা:[/b] বাংলাদেশে বিতর্কিত এক সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট কেন্দ্রগুলোতে যে হামলা হয়, তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৫৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নির্বাচনের সময় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অস্থায়ী ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। কিন্তু তারপরও এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে থেকে চালু করা যাবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হিসেবে ঘোষনার পর ভোট গ্রহণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পশ্চিম সাইতারা উচ্চ বিদ্যালয়। কিন্তু আগের দিন অর্থাৎ শনিবার রাত ১১ টার দিকে স্কুলটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধনঞ্জয় রায় জানালেন, আগুনে অফিস কক্ষসহ পুড়ে যায় অধিকাংশ শ্রেণী কক্ষ।
“আমার অফিস কক্ষ থেকে শুরু করে বারান্দা ও ক্লাসরুমগুলো জালিয়ে দেয় তারা। আমি আসার চেষ্টা করেও পারিনি কারণ পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ ছিল সেদিন। পরদিন সকালে এসে দেখি সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আপতত খোলা আকাশের নীচে ক্লাস নেয়ার চেষ্টা করছি।”
আবার ভোটকেন্দ্র না থাকলেও আগুনে পুড়েছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাজশাহীর চারঘাটার কালাবিপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কোন ভোটকেন্দ্র ছিলনা। কিন্তু নির্বাচনের দুদিন আগে রাতের বেলা এই এলাকার অন্য কয়েকটি কেন্দ্রের সঙ্গে এখানেও আগুন দেয়া হয়। বলছিলেন স্কুলটির প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম।
“চারটি শ্রেণী কক্ষ টিনের চালা টিনের বেড়া সব পুড়ে গেছে, এখন দুইটা ক্লাসরুম আছে আর কমনরুমে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আর খোলা আকাশের নীচেও দুটি ক্লাস নিতেছি। চালু তো রাখতে হবে নইলে ছাত্রছাত্রী ঝরে পড়বে।”
বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রনালয় বলছে সারাদেশে প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী ৪১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২২টি মাদরাসা ও ৯টি কলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্কুল পুড়ে যাওয়ায় নতুন ক্লাসে উঠে নতুন বই হাতে লেখাপড়া শুরু করার প্রথম মুহুর্তেই হোঁচট খেতে হয় সাইতারা স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ডালিম কুমারকে।
“সকালে আসি দেখি ধোঁয়া উড়ছে। স্যাররা সব মাঠে বসে আছে। সব পুড়ে শেষ করে দিসে। সার্টিফিকেট আছিলো, কিছুই নাই সব পুড়েছে। এমন ঠান্ডায় কিভাবে আমরা ক্লাস করবো?
এমন প্রেক্ষাপটে সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে এসব ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে থেকে চালু করা যাবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন জেলা থেকে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একমাসের মধ্যে এগুলো ঠিক করা হবে বলে তাদের জানিয়েছেন। অবশ্য সরকারের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসাম নাহিদ বলেছেন এখন তারা বিষয়টি তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখছেন।

“যেগুলো কম ক্ষতিগ্রস্ত সেগুলো নিজেদের টাকায় অতি দ্রুতই ঠিক করে দেয়া যাবে আর যেখানে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেখানে আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। কারো বাড়িতে সম্ভব হলে বিকল্প ব্যবস্থায় ক্লাস নিতে হবে। কিন্তু লেখাপড়া বন্ধ হতে দেয়া যাবেনা।
যদিও এটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ এবং অনেক অর্থের ব্যাপার। কিন্তু আমরা তো আমাদের শিক্ষা জীবন ব্যাহত হতে দিতে পারিনা।”
নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান গত তিন মাস ধরেই দেশের ৪ কোটি শিক্ষার্থী রাজনৈতিক অস্থিরতায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাতে নতুন করে যোগ হয়েছে এসব নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্থ এসব প্রতিষ্ঠান। সূত্র: বিবিসি