[b]ঢাকা:[/b] চোরাবালিতে আটকে গেছে বাংলাদেশ। এখান থেকে বেরোবার দৃশ্যমান কোন পথ নেই। গতকাল অনলাইন আলজাজিরায় প্রকাশিত এক মন্তব্য প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
‘হোয়াটস নেক্সট ফর বাংলাদেশ?’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজেদের প্রভাব ছাড়া একটি অবাধ নির্বাচন মোকাবিলা করতে হবে এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না আওয়ামী লীগ। তাদের মতো করে একটি সমঝোতায় না পৌঁছা পর্যন্ত তারা সরকার পরিচালনা অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে আরেকটি নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে না দেয়া পর্যন্ত বিএনপি ও তার মিত্ররা অবরোধ ও ধর্মঘট অব্যাহত রাখবে। এরই মধ্যে এতে জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।  
প্রতিবেদনে রাজনীতির এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষ যে কতটা বিপাকে পড়েছে তার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়, দেশে এই মুহুর্তে শীতকালীন উৎপাদিত পণ্য কৃষকের ক্ষেতে পচছে। কাজ নেই। তাই অদক্ষ শ্রমিক, দিনমজুর ও তাদের পরিবারগুলো তাদের চাহিদা মেটাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে স্কুল। বড় বা ছোট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না।
আর এমনই বাস্তবতায় বাংলাদেশের মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বলা হয়, এই দুর্দশার চিত্র রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার দৃষ্টি কাড়ে না। আপনি যখন রাস্তায় চলবেন বা কারও সঙ্গে কথা বলবেন তখন শুনতে পাবেন ভিন্ন মতাবলম্বীদের দুর্ভোগের কথা। বাংলাদেশ প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি মানুষের দেশ। এখানে রয়েছে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389577322.jpg[/img]
এদিকে, আলজাজিরায় প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরোধীজোটের কড়া বর্জনের মধ্যেই শেখ হাসিনা তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে শেখ হাসিনা তার বিজয় বললেও বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরোধীজোটের বয়কট এবং সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ নির্বাচন হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে এটি।
আওয়ামী লীগ একাই গৃহিত ভোটের ৮০ শতাংশ এবং ২৩১ আসনে বিজয়ী হয়ে আগামী ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও ১০ম সংসদ খুব কম সময় টিকবে বলেও প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়। দেশে বিরাজমান গভীর রাজনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপে হাসিনা শিগগিরই আরেকটি নির্বাচন দিতে বাধ্য হবেন বলেও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।