গ্রামের নাম তলুই গাছা। সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। যার পাশেই ভারতীয় সীমান্ত। গ্রামের শতাধিক মানুষের ভাগ্য বদলে গেছে পটলের চাষ করে। অল্প পুঁজি আর জমিতে কম শ্রমে পটল চাষ করে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। সীমান্তবর্তী এই গ্রামের অনেক মানুষ চোরাচালান ছেড়ে আজ পটল চাষ করছেন। এই পটল বিক্রি হচ্ছে খুলনা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। আবার কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক বেকার যুবকের।
কৃষক আব্দুস সামাদ, আলী হোসেন, লাল্টুসহ অনেক কৃষক জানালেন তাদের পটল চাষের কথা। তারা বলেন, মাঘ মাস থেকে শ্রবণ মাস পর্যন্ত পটল চাষ হয়। আর এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করতে খরচ লাগে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি জমি থেকে ১ লাখ টাকার বেশি পটল বিক্রি হয়। এই গ্রামের শহিদুল মোল্লা বলেন, তার ৮ কাঠা জমিতে পটল আছে। ইতোমধ্যে ৪০ হাজার টাকার পটল বিক্রি হয়ে গেছে। এখনও সামনের ২ মাস এই ক্ষেত থেকে পটল উঠবে।
কৃষকেরা জানান, এক সময় ভারত থেকে বীজ এনে তারা পটল চাষ শুরু করেন। সরকারিভাবে তাদের পটল চাষে কোনো প্রকার সহযোগিতা করা হয়নি। এই গ্রামের পটল চাষিরা ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃষি অফিসারকে চেনে না। সরকারি পৃষ্ট-পোষকতা পেলে তারা হয়ত আরও লাভবান হতে পারত বলেও জানান তারা।
পটল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান, আব্দুর রহমান, জামাত আলী জানান, এবার পটল ব্যবসায় তাদের বেশ লাভ হয়েছে। এই পটল সাতক্ষীরার বড় বাজার, খুলনার দৌলতপুর, সোনাগাছি, ঢাকার কারওয়ান বাজার বিক্রি করে তারা যথেষ্ট লাভবান হয়েছেন। পিকআপ ও ট্রাকে করে তারা এসব পটল দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যান।
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পটল নিয়ে যাওয়ার সময় পথে পথে ট্রাফিক পুলিশ ও শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা আদায় করা হয়। যার পরিমান ২০ টাকা থেকে ২'শ টাকা পর্যন্ত। ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের দাবি পটল বোঝায় গাড়ি থেকে যেন আর চাঁদা আদায় করা না হয়।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১নং বাঁশদহা ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃষি অফিসার মোঃ মাহমুদ হোসেন জানান, তার ইউনিয়নে পর্যাপ্ত পরিমান পটলের চাষ হয়েছে। পটলের দামও ভাল। অনেকে পটল চাষ করে এবার ভাগ্যের পরিবর্তন এনেছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার রায় জানান, এবার সদর উপজেলায় ১৮০ হেক্টর জমিতে পটল চাষ হয়েছে। চাষিরা হাতে পরাগায়ন, আদ্রতা সংরক্ষণ, গুটি ইউরিয়া সার ব্যবহার করায় ফলন অনেক গুনে বেড়ে গেছে।
[b]ঢাকা, ১১ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ
[/b]