জনবল সংকটের কারণে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ৩২টি থানায় দায়েরকৃত মামলা তদন্তে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। ফলে মহানগর ও জেলায় বাড়ছে তদন্তাধীন মামলার স্তুপ। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে পাশের জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছে। এদিকে জেলা ও মহানগর পুলিশের জনবল বৃদ্ধির দুটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ঝুলে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। আর এ কারণে আটকে আছে কর্মরত পুলিশের পদোন্নতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জনবল সংকটের কারণে সাম্প্রতিক হরতাল-অবরোধে সহিংসতা মোকাবেলায় পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ধার করে আনতে হয়েছে বাড়তি পুলিশ। সহিংসতা দমনে থানা পুলিশ ব্যস্ত থাকায় স্থিমিত হয়ে পড়েছে পুলিশের দৈনন্দিন কাজকর্ম। নগরীর ১৬টি থানায় পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ ফোর্স না থাকায় এমনটা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার।
তিনি জানান, বাড়তি ৫ হাজার জনবল চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ এক বছর আগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবটি সংশোধনের জন্য পুনরায় সিএমপিতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ৫ হাজারের স্থলে ২ হাজার ৫০০ জনবল চেয়ে সংশোধিত প্রস্তাবটি পুনরায় গত বছর মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সিএমপিতে বর্তমানে ৫ হাজার ৫০২টি মঞ্জুরীকৃত পদ রয়েছে। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছে ৪ হাজার ২০০ জন। অন্যদিকে জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আকতার জানিয়েছেন, জেলার ১৬টি থানাসহ পুলিশ লাইনে ২ হাজার ৪৬৫ পুলিশ সদস্য কর্মরত আছেন। যা বৃহৎ এ জেলার জন্য পর্যাপ্ত নয়। সম্প্রতি হরতাল-অবরোধে সহিংসতা মোকাবেলায় পার্বত্য জেলা থেকে এক হাজার পুলিশ এনে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে।
স্পর্শকাতর উপজেলাগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ। থানায় পুলিশ কম হওয়াতে দৈনন্দিন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, চট্টগ্রাম জেলার জন্য পুলিশের ২৬২ জনবল বৃদ্ধির জন্য ১৩ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রেরিত প্রস্তাব পাস হলে জেলায় পুলিশ সংকট কমে যাবে।
এদিকে জেলা ও মহানগরীতে অনেকেই একাধিকবার বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও বহাল রয়েছেন একই পদে। ফলে তাদের সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বারবার পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ায় তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।
[b]ঢাকা: (২৬ জানুয়ারি টাইমনিউজবিডি.কম ) // ইএইচ[/b]





