তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
                           -জসীম উদদীন
১৯০৩ সালের এই দিনে ফরিদপুর শহরতলীর কৈজুরী ইউনিয়নের ছায়াঢাকা আর পাখিডাকা তাম্বুলখানা গ্রামে নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কবির পিতার নাম আনছার উদ্দীন, মাতা আমেনা খাতুন।
পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ফরিদপুর শহরের হিতৈষী স্কুলে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি জেলা স্কুল থেকে ১৯২১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯২৪ সালে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি এবং একই কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ১৯৩১ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে এমএ পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬১ সালে চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
জসীমউদ্দীন বাল্য বয়স থেকেই কাব্য চর্চা শুরু করেন। ১৪ বছর বয়সে নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে তৎকালীন কল্লোল পত্রিকায় তার একটি কবিতা প্রকাশিত হয়।
তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী। এরপর তাঁর একে এক ৪৫টি বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। কবি ১৯৭৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার, ১৯৬৮ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট উপাধি, ১৯৭৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।
পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের ১১১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর শহরতলী অম্বিকাপুরে কবির সমাধিস্থল সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসন ও জসীম ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায়। অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা।
এছাড়া শহরে কবি জসীমউদ্দীন হলের সামনে ‘আমরা সুজনের দল’ দিনব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক মেলার আয়োজন করেছে।
পল্লী কবির অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে, নকশী কাথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, এক পয়সার বাঁশি, রাখালী, বালুচর প্রভৃতি।
কবির জন্মোৎসব উপলক্ষে তাঁর বাড়ির সামনে জসীম উদ্যানে ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিবছর পক্ষকালব্যাপী বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়।
লোকজ, পল্লী, বাউল ঐতিহ্য বিকাশের লক্ষে জসীম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মেলাটির আয়োজন করা হয়।
জেলার শতাধিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রতিদিন বিরামহীনভাবে আয়োজন করা হয় লোকজ, পল্লী, বাউল, লালন, জারী, সারি, গীতিনাট্য,  বিচার ও পালাগান।
দীর্ঘদিন অবহেলিত পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের স্মৃতি ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। ২০১১ সালে কবির বাড়িটিকে ঘিরে একটি মিউজিয়াম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেই কাজ শুরু হয়।
পল্লী কবি জসীমউদ্দীন ১৯৭৬ সালের ১৪ই মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।