রাজধানীর উপকণ্ঠে শিল্পশহর টঙ্গীর তুরাগ তীরের সুবিশাল প্রান্তরে মুসল্লিদের পদচারনায় মুখরিত। আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ৪৯তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দফা।
রোববার পূর্বাহ্নে প্রথম দফার আখেরি মুনাজাতের পর চার দিন বিরতি দিয়ে ৩১ জানুয়ারি শুরু হবে ইজতেমার দ্বিতীয় দফা।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি রোববার জোহরের আজানের আগে আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুই দফার বিশ্ব ইজতেমা।
গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার (বর্তমানে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি) মাহফুজ নুরুজ্জামানের অনুরোধে তাবলিগ জামাত কর্তৃপক্ষ ২০১১ সাল থেকে দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করে আসছে। এতে ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গীতে মানুষের চাপ যেমন কমছে তেমনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন অনেকটা সহজতর হয়েছে। এবারের দুই দফার ইজতেমার সব প্রস্তুতি  সম্পন্ন করেছে তাবলিগ জামাত কতৃপক্ষ। সেই সাথে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ,দফতর, অধিদফতর ও সংস্থা ইজতেমা আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইজতেমায় এবার পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলবে পুলিশ। প্রতি স্তরের দায়িত্বে থাকবেন একজন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। ইজতেমার প্রথম দফায় প্রায় ১২ হাজার ও দ্বিতীয় দফায় প্রায় ১০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জেলা পুলিশ সুপার অফিস সূত্রে জানা গেছে। সেই সাথে থাকছে র‌্যাবের পৃথক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। নাশকতা প্রতিরোধে ইজতেমা ময়দান এলাকার আকাশে র‌্যাবের হেলিকপ্টার টহল ও ময়দানে বোমস্কোয়াড,গোয়েন্দা টিমসহ র‌্যাবের বিভিন্ন টিম প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা গেছে,ময়দানের বিভিন্ন প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে র‌্যাবের সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ারসহ চেকপোস্ট তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। টঙ্গী-আশুলিয়া সড়কের সাথে ইজতেমা ময়দানের সংযোগ স্থাপন করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদীতে ৮টি ভাসমান সেতু স্থাপন করেছেন।
র‌্যাব-১ এর ডিআইডি কবির জানান,তারা এবার অর্ধশতাধিক সিসি ক্যামেরা বসাবেন। প্রতিবারের মতো এবারো ইজতেমা ময়দানের উত্তর পাশে নিউ মন্নু ফাইন কটন মিলের আঙিনায় র‌্যাব,পুলিশ,জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই),গাজীপুর সিটি ও জেলা প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিভিন্ন দফতরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে।