৩৫ ও ৩১ বছরে বিদায় নিলো নৌবাহিনীর দুই পরাক্রমশালী জাহাজ ‘আলী হায়দার’ ও ‘আবু বকর’। বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে ওই দুই জাহাজ। পাশাপাশি চোরাচালান ও সন্ত্রাস দমন,জাটকা প্রতিরোধসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জাহাজ দু’টি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমানা ও বর্ধিত মহিসোপান এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাহাজদুটির ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। অপারেশনাল কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে জাহাজদুটি দেশ এবং দেশের বাহিরে নিয়মিত বিভিন্ন নৌমহড়াতে অংশ নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
এদিকে দুই জাহাজের শুণ্যস্থান পুরণের উদ্যোগ এরইমধ্যে নেয়া হয়েছে। নাম ঠিক রেখে ওই দুই জাহাজের জায়গায় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে দুটি ‘০৫৩এইচ২’ টাইপের ফ্রিগেট। চীন থেকে এ দুটি জাহাজ কিনেছে সরকার। গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ দুটি এসে পৌঁছায়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন,‘জিয়াংহু-৩’ ক্লাসের মিসাইল ফ্রিগেট দুটি দৈর্ঘ্যে ১০৩ দশমিক ২২ মিটার এবং প্রস্থে ১০ দশমিক ৮৩ মিটার। জাহাজ দু’টি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৬ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম। আধুনিক ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ দু’টি বিমান বিধ্বংসী কামান,জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল এবং সমুদ্র তলদেশে সাবমেরিনের অবস্থান শনাক্তকরণসহ সুনির্দিষ্ট টার্গেটে আঘাত হানতে সক্ষম।
এর মাধ্যমে বিশাল সমুদ্র এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ,চোরাচালান রোধ,গভীর সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা,মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি তেল,গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বরাদ্দকৃত ব্লকসমূহে অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নৌবাহিনী জানিয়েছে,নৌ বহরের ৭ম ফ্রিগেট স্কোয়াড্রন হিসেবে বানৌজা ‘আলী হায়দার’ এবং ‘আবু বকর’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুভেচ্ছা সফরে যোগদান করে বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ভাবমূর্তিকে উজ্জল করেছে। এছাড়া নৌবহরে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই জাহাজদুটিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা এবং নাবিক পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন।
মুলত ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠনের অংশ হিসেবে আধুনিক মানের এসব জাহাজ কেনা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,নৌবাহিনী অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি এবং প্রশিক্ষণের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করে। এতে বলা হয়েছে,ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠনের অংশ হিসেবে চীন থেকে দুটি অব দি সেলফ সাবমেরিন ও দুটি ফ্রিগেট কেনা হচ্ছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি ইউএসসিজি কাটার ডালাস (ডব্লিউএইচইসি-৭১৬) শিপ সংগ্রহের চেষ্টা আব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে দুটি মেরিটাইম পেট্রল এয়ারক্রাফট (এমপিএ) কিনতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাহিনীর দক্ষতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,নৌবাহিনীর অফিসার ও নাবিকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কোর্স,মমহড়া এবং প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র সামগ্রী চালনা ও প্রশিক্ষণের জন্য অধিকসংখ্যক কর্মকর্তা ও নাবিকদের নৌ বাহিনীর প্রশিক্ষন কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
তাছাড়া দেশের অভ্যন্তরে অন্যান্য সংস্থায় এবং বিদেশেও প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে,দেশের প্রতিরক্ষা খাত আরও শক্তিশালী করতে সেনা,নৌ ও বিমানবাহিনীতে যোগ হচ্ছে আধুনিক অস্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে, অটোমেটিক গ্রেনেড লঞ্চার,অব দি সেলফের মতো সাবমেরিন এবং বিজিআই জঙ্গি বিমান। মূলত বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাহিনীর মতো আধুনিক বাহিনী গড়ে তুলতে সরকার এরই মধ্যে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। এরই অংশ হিসেবে তিন বাহিনীতে আধুনিক অস্ত্র সরবরাহর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাহিনীর সদস্যদের গুণগতমান আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
[b]ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি(টাইমনিউজবিডি)// জেআই[/b]
শ্রেণীহীন
নৌ বহর থেকে বিদায় ২ জাহাজের
৩৫ ও ৩১ বছরে বিদায় নিলো নৌবাহিনীর দুই পরাক্রমশালী জাহাজ ‘আলী হায়দার’ ও ‘আবু বকর’। বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে ওই দুই জাহাজ।





