‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লিখে তরুণী ম্যাকসের নগ্ন বিজ্ঞাপন প্রকাশের ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের সচেতন মানুষ। এদেশের মানুষ জানতে চায় কার অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত তরুণী ম্যাকসের নগ্ন ও অনাবৃত বক্ষে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে আমেরিকাল অ্যাপারেলস।
ইন্টারনেটে এবং ফেইস বুকে একজন পোশাক শ্রমিকের এই ধরনের নগ্ন ছবির প্রকাশিত বিজ্ঞাপনটি প্রচণ্ডভাবে আঘাত করেছে পেশাজীবী ও শ্রমজীবী মানুষকে।
এছাড়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার আগে অর্থাৎ গায়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখার অনুমতি কি ওই 'তরুণী ম্যাকস' নিয়ে ছিলেন। পূর্বানুমতি না নিয়ে একটি দেশের নাম ব্যবহার করা কতটুকু আইনসম্মত এই বিষয়টিও বাংলাদেশেকে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন অনেকে।
ম্যাকস বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত একজন সাবেক মুসলিম তরুণী। তার জম্ম ঢাকায় হলেও চার বছর বয়স থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাস করছেন। ম্যাকসের ছবির নিচে তার জীবনের একটি ছোট্ট গল্প লেখা হয়েছে একই সঙ্গে বর্ণনা করা হয়েছে তার পরিহিত ‘হাই ওয়েস্ট জিন’ এর প্যান্টটির।
ওই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বের অনেক দেশেই বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়েটিভ ডাইরেক্টর ইরিস এলোনজো সৃষ্ট নানা প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং তৈরি পোশাক খাতের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যের নজির স্থাপন করেছেন।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, হেলভেটিকা টাইপে ম্যাকসের বুকের ওপর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ কথাটি বসিয়ে কৌশলে যৌনতার প্রকাশ ঘটানো হয়েছে এই ছবিতে। আর ম্যাকসকে বোতামহীন একটি জিন্স প্যান্ট পরিয়ে যেভাবে বিজ্ঞাপন চিত্রটি প্রকাশিত হচ্ছে তাও যৌনতাকেই উষ্কে দিচ্ছে।
এদিকে আমেরিকাল অ্যাপারেলসের প্রকাশিত ম্যাকস নামে ওই তরুণীর পরিহিত জিন্স প্যান্টটিকে বিজ্ঞাপিত করতেই তারা এই আয়োজন করে। তারা ছোট্ট বর্ণনায় লেখা হয়েছে হাই ওয়েস্ট জিন প্যান্টটি আমেরিকাল অ্যাপারেলসের একটি পণ্য যা তৈরি করেছে ২৩ জন দক্ষ শ্রমিক যারা সকলেই মর্যাদাপূর্ণ মজুরি পাচ্ছেন, স্বাস্থ্য সেবাসহ শ্রমিকের অন্য মৌলিক সুবিধাগুলোও পাচ্ছেন বলে বুঝাতে যাচ্ছে।
আসলে ‘মেড ইন বাংলাদেশ' লেখা তরুণী ম্যাকসকে একজন সাহসী এবং মোহনীয় উল্লেখ করে বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। এই বিজ্ঞাপন, আমেরিকান অ্যাপারেলস গর্বিত হলেও প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশ হয়েছে প্রতারিত।
ইরিস এলোনজো ইঙ্গীত করেছেন, অতীতে ও আমেরিকান অ্যাপারেলের বিরুদ্ধে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এরপও আগামী মাসের সংখ্যায় বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভাইস’র যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সংখ্যায় প্রকাশিত হবে ম্যাকসের সেই নগ্নবক্ষে মেড ইন বাংলাদেশ লেখা বিজ্ঞাপনটি।
ইরিস এলেনজোর জবাবে বেরিয়ে এসেছে দীর্ঘ দিন ধরেই অ্যামেরিকান অ্যাপারেলস টার্গেট করে তার কর্মীদের বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে ব্যবহার করছেন। ম্যাকসকেও মডেল হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা দীর্ঘ দিনের। এবারের পণ্যটির সঙ্গে বিভিন্ন কারণেই ম্যাকসের অতীতের ঘটনা ও বর্তমান অবস্থান খাপ খেয়ে যায়। আর সে কারণেই তাকে এর মডেল করা হয়েছে।
কিন্ত এখানে রানা প্লাজার বিপর্যয়ের কোনো অযুহাত খাটে না। আর কর্মক্ষেত্রে অনিরাপদ পরিবেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শ্রমিকরা বিশ্বের সবচেয়ে কম মজুরি পাচ্ছেন। সম্প্রতি তাদের মাসিক মজুরি বেড়ে ৬৮ ডলার হয়েছে। আর আমেরিকান অ্যাপারেলসের প্রায় ৫ হাজার কারখানা শ্রমিক প্রতি ঘণ্টায় মজুরি পাচ্ছেন ১০ থেকে ২৫ ডলার পর্যন্ত।
এলোনজো বলেন, কোনো কোনো বিজ্ঞাপনে এই কারণেই যৌণতা এসে যায়, কোনোটিতে আসে না। আবার কোনোটিতে উভয়ের প্রতিফলন ঘটে। যেখনে যৌনতা আসে মিডিয়া সেখানেই ফোকাস করে।
‘মেড ইন বাংলাদেশ’ কে তেমনই একটি ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করতে চান ইরিস এলোনজো্। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর আঘাত হানা এর উদ্দেশ্য নয়। আর বাংলাদেশের নারী শ্রমিকরা এর টার্গেট নয়, বলেন এলোনজো।
ফ্যাশনিস্টা নামের একটি ম্যাগাজিনের অনলাইন ভার্সনে লরেন শেরমান নামে একজন রাইটার ইরিস এলোনজোর সঙ্গে কথা বলে তার প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছেন।
প্রকৃত পক্ষে এই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর শ্রমজীবী নারীর স্বাধীনভাবে জীবন যাপনের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
[b]ঢাকা, একে, ১৪ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর [/b]
শ্রেণীহীন
ম্যাকসের নগ্ন বিজ্ঞাপন ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ
‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লিখে তরুণী ম্যাকসের নগ্ন বিজ্ঞাপন প্রকাশের ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের সচেতন মানুষ। এদেশের মানুষ জানতে চায় কার অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত তরুণী ম্যাকসের নগ্ন ও অনাবৃত বক্ষে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে আমেরিকাল অ্যাপারেলস





