আজ ১ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাটের হাতিবান্ধায় পালিত হচ্ছে নিপাহ ট্রাজেডি দিবস। এ দিনে ২২টি তাজা প্রাণ অকালেই ঝড়ে যায়। দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন এবং অরণ্য-অনন্যা স্মৃতিসংঘ  ।
২০১১ সালের এই দিনে হাতিবান্ধায় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের অরণ্য, অনন্যা  অকালেই ঝড়ে যায়, ভেঙে যায় পরিবারটির স্বপ্ন। সে দিন ভয়ে এলাকা ছাড়তে শুরু করেছিল স্থানীয় লোকজন। সেই ট্র্যাজেডি আজও নীরবে কাঁদায় এখানকার মানুষকে।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে সূর্য ওঠার পরপরই স্থানীয় স্কুলশিক্ষক অশোক কুমার ঘোষের দুই শিশু সন্তান অরণ্য আর অনন্যা’র আকস্মিকভাবেই জ্বর, মাথাব্যাথা ও খিঁচুনি শুরু হয়।  দ্রুত তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হলেও কিছু বুঝে ওঠার আগেই  মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তারা। আতংকিত হয়ে পড়ে পরিবার ও এলাকাবাসী। একই সময়ে হাতিবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশেপাশের এলাকা থেকে অজানা রোগের অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনেরা ছুটে আসেন, রোগীদের সবার লক্ষণগুলো ছিল একইরকম।
আক্রান্ত হলে নিশ্চিত মৃত্যু জানলেও রোগের নাম, প্রতিরোধের উপায় তখনও জানতেন না কেউ। ফলে আতংকে লোকজন এলাকা ছাড়তে শুরু করে। কিন্তু ততক্ষণে ছোট্ট এলাকাটিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২-এ। নিহতদের স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে সেখানকার বাতাস।
খবর পেয়ে ঢাকা থেকে ছুটে আসে বিশেষজ্ঞ দল, চলে রোগ নির্ণয়ের নানা গবেষণা। অবশেষে শনাক্ত হয় নিপাহ ভাইরাস, যা এই রোগের বাহক।
জানা যায়, নিপাহ ভাইরাস বাদুর থেকে ছড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বাদুরের মুখের লালা থেকে এই ভাইরাস মানব দেহে ছড়ায়। খেজুরের রস পান না করার পরামর্শ দেন তারা।
সাধারণত, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সময় শীতকাল হলেও সেই দিনটির পর থেকে অভিজ্ঞতা আর সর্তক থাকার কারণে এবারের শীতে এখনো পর্যন্ত এই ভাইরাসে উপজেলাটিতে কেউ আক্রান্ত হয়নি।
নিপাহ ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষ্যে নিহতদের স্মরণে হাতিবান্ধার মসজিদ-মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়গুলোতে করা হচ্ছে প্রার্থনা। উপজেলার সর্বস্তরের মানুষজনের অংশগ্রহণে পালিত হচ্ছে শোক র্যা লি ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন। এই রকম অজ্ঞাত রোগে আর একটি প্রাণও যেন ঝড়ে না যায়, সেই প্রত্যাশাই করছেন সবাই।
[b]লালমনিরহাট, ১ ফেব্রুয়ারি, (টাইমনিউজবিডি)//এসএইচ[/b]