[b]মুন্সীগঞ্জ:[/b] ডাকাতদের হামলায় মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চের চার যাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মদনগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজদের মধ্যে লঞ্চের কেরাণী মোবারক হোসেন, মুন্সীগঞ্জ শহরের মালাপাড়া এলাকার অ্যাডভোকেট সুমন চন্দ্র দাসের পরিচয় পাওয়া গেছে। অপর দুই যাত্রীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
মধ্যরাত পর্যন্ত নিখোঁজ যাত্রীদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন লিটন মিয়া (৩০), জরিনা বেগম (৩৩), শরীফ মিয়া (৫০), মো. ইলিয়াছ (৩৪), শিমু বেগম (২৮), লঞ্চের কেরানী মোবারক (২৭) মাষ্টার মফিজ মিয়া। বাকিদের নাম জানা যায়নি।
লঞ্চ যাত্রী মাহাবুবু মোর্শেদ জানান, সন্ধ্যায় নারায়নগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ৪০ থেকে ৫০ যাত্রী নিয়ে রিগ্যান এক্সপ্রেস নামে যাত্রীবাহী লঞ্চ মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়।
পথিমধ্যে মদনগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল অতিক্রম করার পর ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে ১০ থেকে ১২ জনের ডাকাতদল বিভিন্ন অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লঞ্চটিতে হামলা চালায়।
এ সময় ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
যাত্রীরা জানান, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চে ডাকাতি শুরু হওয়ার পর ডাকাত দল লঞ্চটিকে মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদী অতিক্রম করে গজারিয়ার মেঘনা নদীর মোহনায় নিয়ে যায়। এরপর ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে কলাগাছিয়া এলাকার দিকে চলে যায়।
বাছেদ খান নামে এক যাত্রীর কাছে থাকা সাড়ে ৩ লাখ টাকা ও তার স্ত্রী রানী বেগমের ৪ ভরি স্বর্নালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।
ফারমিন বেগম নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে নগদ ৪৭ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও বাবুল নামে আরেক যাত্রীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
ডাকাতদল যাত্রীবাহী লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জে আসতে না দিয়ে চলন্ত অবস্থায় গজারিয়ার মেঘনা নদীর দিকে নিয়ে যায় এবং ডাকাতি শেষে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে চলে যায়। পরে লঞ্চটি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে পৌঁছে।
এ সময়ের মধ্যে ডাকাতের হামলায় অন্তত ২০ যাত্রী আহত হন।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জ থানা পুলিশ লঞ্চঘাট এলাকায় পৌঁছে ডাকাতির খোঁজখবর নিচ্ছেন।
এদিকে,নিখোঁজদের সন্ধানে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে পাগলা কোস্টগার্ড নদীতে তল্লাশি শুরু করে। প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে তল্লাশি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে, দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাপস দাস নামে এক যাত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে ডাকাত দল। পরে গুরুতর আহত তাপস দাসকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তার বাড়ি ভোলা জেলায়। তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ডায়িং কোম্পানিতে চাকরি করেন।
মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেল এএসপি মো. এমদাদ হোসেন বৃহস্পতিবার রাতে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল ও জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করে আহত যাত্রীদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
তবে ডাকাতির ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় দাবি করে কৌশলে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, লঞ্চ ডাকাতির ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় পড়েছে। তাই, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তাদের।