বিশ্ব মুসলিমের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জমায়েত ৪৭তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের শেষ দিন রোববার। লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষের মিলন মেলায় তুরাগ তীর এখন বিশাল জনসমুদ্র।
আজ দুপুরে দিল্লীর মাওলানা যুবায়রুল হাসান আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বলে জানা গেছে। আর বিশ্ব শান্তি, সমৃদ্ধিসহ সব কামনা-বাসনার কাঙ্ক্ষিত আখেরি মোনাজাতের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন মুসল্লীরা।
আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে শনিবার দিনগত রাত ১২টায় টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার মূলপ্যান্ডেল কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে। ভেতরে জায়গা না পেয়ে মানুষ রাস্তায় অবস্থান নেওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক।
একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে আশুলিয়া ও নরসিংদী সড়ক। দলে দলে রাস্তায় মানুষের যাতায়াতের কারণে যানবাহন চলাচল নিজ থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে ঢাকা-ময়মনিসংহ মহাসড়কের জয়দেবপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে গণপরিবহন চলছে না। ইজেতমার কাজে নিয়োজিত ও সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ছাড়া গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
জনসমুদ্রের কারণে ও রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কামারপাড়া, আশুলিয়া, মরকুন ও চান্দনা চৌরাস্তা নিয়ে কৃত্রিমভাবে গড়ে উঠেছে বিশ্ব ইজতেমার বর্ধিত প্যান্ডেল। ১৬০ একর ইজতেমা প্যান্ডেল এখন অস্থায়ীভাবে সম্প্রসারিত হয়ে প্রায় ১০ কি.মি. এলাকায় বিস্তার লাভ করেছে।
[b]আখেরি মোনাজাতের প্রস্তুতি:[/b] রোববার আখেরি মোনাজাতের আগেরদিন মুসল্লিদের ঢলের কারণে মূল প্যান্ডেলে স্থান না পেয়ে অনেকে নিজ উদ্যোগেই প্যান্ডেলের বাইরে পলিথিন, চট, গাড়ির সিট, পলিথিন, কাগজ এমনকি কাপড়ের সামিয়ানা টানিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।
মোনাজাতের দিন অতিরিক্ত মাইক সংযোগ: বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত প্রচারের জন্য গণ যোগাযোগ অধিদপ্তর ও গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে গণ যোগাযোগ অধিদপ্তর ইজতেমা ময়দান থেকে আব্দুল্লাহপুর ও বিমানবন্দর রোড পর্যন্ত এবং গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস ইজতেমা ময়দান থেকে চেরাগআলী, টঙ্গী রেল স্টেশন, স্টেশন রোড ও আশপাশের অলিগলি পর্যাপ্ত মাইক সংযোগের ব্যবস্থা করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা তথ্য অফিসার মো. আবু সায়েম হোসেন।
আখেরি মোনাজাতে ভিআইপিরা কে কোথায় থাকবেন:বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে আখেরি মোনাজাতে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বয়ান মঞ্চের পাশে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মূল মঞ্চের কাছে গিয়ে মোনাজাতে শরিক হবেন বলে জানা গেছে।
এটলাস কোম্পানির ছাদে বিশেষ মঞ্চে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য ছাড়াও সংসদ সদস্য এবং ভিআইপিদের জন্য ইজতেমা মাঠ এবং আশপাশের বিভিন্ন ভবনের ছাদে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী ইজতেমা এলাকায় না এসে গণবভনে  ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মোনাজাতে অংশ নিতে পারেন বলে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন পিপিএম জানান, ১৫ হাজার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে চলমান এ ইজতেমায় লাখ লাখ মুসল্লী অংশগ্রহণ করছেন। যে কোনো নাশকতা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
যাতায়াত ব্যবস্থা: সড়ক পথ, রেলপথ ও নৌপথে মুসল্লীরা ইজতেমা ময়দানে আসছেন। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান পর্যন্ত ৩০০টি বাস চলচল করছে। রেলপথে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ২৫ জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। এ ছাড়া ইজতেমা মাঠকে ঘিরে তুরাগ নদীর বিভিন্ন ঘাটে নৌ-যানে করে ইজতেমার মুসল্লীরা আসছেন।
রোববার আখেরি মোনাজাতে শরীক হতে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান টঙ্গীর তুরাগ তীরে আসছেন। ট্রেন, বাস, ট্রাক,পিকআপ, ট্রেম্পো, লঞ্চ, ট্রলার সহ বিভিন্ন গণপরিবহনে দলে দলে আসছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। রাস্তায় যানবহন ও ইজতেমাস্থলে মানুষের ভীড় বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ ঘোষিত রোববার সকাল ৬টার পূর্বেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে নির্ধারিত তিনটি মহাসড়ক।
মূলপ্যান্ডেলের পর চারপাশ পূর্ণ হলেও মহাসড়কে অবস্থান নেবেন মুসল্লীরা। মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় মুসল্লীদের রাস্তায় অবস্থান করতে হচ্ছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-নরসিংদী ও আশুলিয়া মাহসড়ক।