[b]ঢাকা: [/b]সম্প্রতি ইউরোপের ‘এক্সপোর্ট পাওয়ার হাউস’খ্যাত জার্মানির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বাড়ার পরপরই তিনি এ পরামর্শ দিলেন। খবর এএফপির।
বার্লিনে জার্মান অর্থমন্ত্রী ভলফগ্যাং শয়ব্লের সঙ্গে আলোচনা শেষে জ্যাক লু বলেন, ‘আমরা মনে করি অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও চাহিদা বাড়ায়— এমন নীতি জার্মানির মতো বড় অর্থনীতির জন্যও ভালো।’
শক্তিশালী অর্থনীতি ও সরকারি অর্থব্যবস্থার কারণে বরাবরই ইউরোপীয় অংশীদারদের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে জার্মানি। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নিছক রফতানিমুখী প্রবৃদ্ধির বদলে বিনিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়িয়ে মন্দাক্রান্ত ইউরোপকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করার জন্য তাদের ওপর চাপ বাড়ছে।
গত বুধবারের উপাত্তে দেখা যায় নভেম্বরে জার্মানিতে নতুন ক্রয়াদেশ অনেক বেড়েছে, যা দেশে-বিদেশে তাদের পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি নির্দেশ করে। জার্মান অর্থনীতি নিয়ে বিশ্লেষকদের আশাবাদও অনেক বেড়েছে।
রাষ্ট্রীয় সফরে সংশ্লিষ্ট রাজধানীগুলোয় ফ্রান্স, জার্মানি ও পর্তুগালের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জ্যাক লু।
তার মতে, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও চাহিদা বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও রফতানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রয়োজন। অবকাঠামোয় বিনিয়োগ ও ন্যূনতম মজুরি সম্পর্কিত মার্কেলের নতুন নীতি এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন লু। সোস্যাল ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনে নেয়া এসব পদক্ষেপে জার্মানির অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়বে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সবারই লক্ষ্য প্রবৃদ্ধি ও সংস্কার।’
আমদানি কমার পাশাপাশি রফতানি বাড়তে থাকায় জার্মানির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আরো বেড়েছে এমন তথ্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব বক্তব্য আসে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে। কয়েক মাস আগেও জার্মানির অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও ভোগ না বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। গত অক্টোবরের এক পর্যালোচনায় মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভও (ফেড) জার্মানির চাহিদা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছিল। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে সেখানকার পুনরুদ্ধারে নিজেদের বাজারের ওপর যথেষ্ট মনোযোগ না দেয়ায় জার্মান নীতিনির্ধারকদের সমালোচনাও করেছিল ফেড।
গত বছরের শেষ দিকে ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে অন্যান্য দেশের মতো জার্মানির সঙ্গেও সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের।
ইউরোপিয়ান কমিশন জার্মানির বাণিজ্য উদ্বৃত্তের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। মূল্যস্তর ও প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি থেকে ইউরো অঞ্চলকে বের করে আনতে জার্মান চাহিদার দুর্বল প্রবৃদ্ধির সমালোচনা করছে সব পক্ষই।
অবশ্য এ পরিস্থিতিকে অযৌক্তিক বলে মনে করছিল না বার্লিন।  তারা তাদের কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা-সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরে।
এবারও নিজ নীতির সমর্থনেই কথা বলেছে জার্মানি। অর্থমন্ত্রী শয়ব্লে বলেন, জার্মান প্রবৃদ্ধিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদার ভূমিকা যথেষ্ট। এছাড়া সার্বিকভাবে ইউরো অঞ্চলের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত খুবই কম।
বুধবারের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,  ‘ইউরো অঞ্চলের সঙ্গে জার্মানির বাণিজ্যে কোনো উদ্বৃত্ত নেই। বরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টিতে অবদান রেখে যাচ্ছি আমরা।’
ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের বুধবারের উপাত্তে দেখা যায়, নভেম্বরে জার্মানির রফতানি ৩০ কোটি ইউরো বেড়ে ৯৩ দশমিক ২ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আগের মাসের চেয়ে আমদানি ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৭৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে।
আঞ্চলিক বাণিজ্যের হিসাবে, নভেম্বরে ইউরো অঞ্চলে জার্মানির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। আমদানি কমেছে ১ শতাংশ।
জার্মানিতে রফতানি বাড়াতে না পারাটা ইউরো অঞ্চলের জন্য হতাশাজনক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মার্কিটের বিশ্লেষক ক্রিস উইলিয়ামসন বলছেন, এতে জার্মানির ওপর অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর চাপ আরো বাড়বে।
তিনি আরো বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্যে জার্মানির এ উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি ১৯৯০ সালের পর সর্বোচ্চ।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]