জাতীয় গৃহায়নের কোটিপতি  কর্মচারী দেলোয়ার রাজকীয় জীবন যাপন করেন। তার নেতৃত্বে ওই অফিসে চলছে ফ্রিস্টাইলে  ঘুষ কেলেংকারি, দুর্নীতি ও অনিয়ম।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ক্যাশিয়ার (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা)  দেলোয়ারের দফতরে জমি বরাদ্দ,ফ্ল্যাট বরাদ্দ্, নামজারী,আম-মোক্তারনামা ইত্যাদি  কাজে আসা লোকজন  অমানবিক হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে ওই অফিসের একাধিক কর্মচারী জানান, ক্যাশিয়ার পদের কর্মচারী মো: দেলোয়ার হোসেন আজ কোটি পতি। তারা জানান অস্বাভাবিক ক্ষমতাধর ক্যাশিয়ার দেলোয়ারের বিরুদ্ধে নানা দূর্নীতি ও অনিয়মের কথা শুনলে আৎকে উঠার মতো। তার পিতা অহিদ মিয়া গৃহায়নের মাস্টার রোলে ইলেক্ট্রিশিয়ান পদে চাকুরি করতেন। অথচ ছেলে দেলোয়ার সামান্য ক্যাশিয়ার পদে চাকুরি করে ঢাকা শহরে ১৪টি ফ্ল্যাট এবং ৯টি প্লটসহ  কয়েক শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক  হয়েছেন।
দেলোয়ার গ্রামের বাড়িতে ৮২ লাখ টাকা খরচ করে সুরম্য অট্টালিকা বানিয়েছে। তিনি গত ঈদ করেছে সিঙ্গাপুর ও মালয়শিয়ায়।
ফাইল আটকে রেখে লোকজনের কাছ থেকে  লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে থাকেন ব্যস্ত। এছাড়া ঘুষের টাকার বিনিময়ে ভূমি জালিয়াত চক্রের পক্ষে সরকারি সম্পত্তি বরাদ্দপত্র,নামজারী করে দিতে দ্বিধাবোধ করে না। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাচ্ছে।
দেলোয়ার ফ্ল্যাট নং ২৫/এ,নিউ কলোনী,লালমাটিয়া,ঢাকায় বসবাস করে। তার ফ্ল্যাটে গেলে মনে হবে , নাজানি কোনো মন্ত্রী ও সচিব অথবা বড় ধরনের কোনো শিল্পপতির  বাসা। দামি আসবাবপত্র, সোফাসেট, বড় সাইজের এলইডি টেলিভিশন, দামি ফ্রিজার,দামি কার্পেট,মূল্যবান তৈজসপত্র। এ বাসায় প্রায় ৯.৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে বাথরুম ফিটিং,অত্যাধুনিক টাইলস ও কাঠের কারুকাজে। তার বাসার পাশে সরকারি খালি জায়গায় ৩০ ফুট বাই ১৫ ফুটের' টিনের ঘর তুলে অবৈধভাবে ভাড়া দিয়েছে। এছাড়াও কলোনীর ১৫০টি কোয়ার্টারের জন্য একটি পাম্প ও রিজার্ভার রয়েছে।
দেলোয়ার পাম্প হাউজের নিচে অবৈধভাবে ৮০ ফুট বাই ১৫ ফুট' রূম তুলে  মাসিক ৩০ হাজার টাকায় মেস হিসেবে ভাড়া দিয়েছে।  
মোহাম্মদপুর 'ব্লক-ই' জাকির হোসেন রোডের বি-৪১ নং হোল্ডিং-এ দেলোয়ারের  ইলেকট্রনিক্স ও ডিশ এন্টেনার একটি দোকান আছে। এছাড়াও জাকির হোসেন রোডের ব্লক-ই এর এ-১৫ নং বিল্ডিং ৩টি ফ্ল্যাট ও চাঁদ (চান) মিয়া হাউজিং ৩,৫, ৬নং রোডে চারটি প্লটসহ অসংখ্য ফ্ল্যাট ও প্লট নামে বেনামে ক্রয় করেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে,  জাতীয় গৃহায়ন অফিসে জমি বরাদ্দ,ফ্ল্যাট বরাদ্দ্, নামজারী,আম-মোক্তারনামা ইত্যাদি  কাজে  ফাইল আটকিয়ে মানুষদের হয়রানি করছে ক্যাশিয়ার দেলোয়ার। প্রতিটি ফাইলে দেলোয়ার ৫০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা ঘুষ দিতে লোকজনকে বাধ্য করেন।
এবিষয়ে দেলোয়ার মিডিয়ার কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না বলে সাফ জবাব দেন।
[b]ঢাকা, একে ১০ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর
[/b]