মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন সিনের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার দুপুরের মায়ানমারের রাজধানী নেপিতে প্রেসিডেন্ট প্যালেসে বৈঠকে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানের জবাবে মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, শরণার্থী ইস্যুটি বাংলাদেশ ও মায়ানমারের দ্বি-পাক্ষিক সমস্য। দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার মধ্য দিয়ে নিজেরাই এর সমাধান করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. মাহবুবুল হক শাকিল বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো জোরদার করার পক্ষে মত দিয়েছেন দুই নেতা।
বাংলাদেশে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন করে সরকার গঠন ও পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন সিন।
মাহবুবুল হক আরও জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মায়ানমারকে নিকটতম প্রতিবেশি দেশ হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার কথা বলেছেন।
দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ইস্যুতেও কথা হয় হাসিনা-থিন সিনের। মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট জানান, তার দেশের ব্যবসায়ীদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে।
মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট এসময় ভারত-মায়ানমার-থাইল্যান্ড কানেক্টিভিটির সঙ্গে বাংলাদেশ যোগ দিতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বানকে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বলেই মত দেন। এসময় তিনি বাংলাদেশ-মায়ানমার-কুনমিং কানেক্টিভিটি আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও দৃঢ়তার দিকে নিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যান মায়ানমারের জাতীয় সংসদ ভবনে। এখানে তিনি প্রথমেই ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির সভাপতি, গণতন্ত্রের অবিসংবাদিত নেতা অং সান সুচির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর বৈঠক করবেন মায়ানমারের জাতীয় সংসদের স্পিকার থুরা শোয়ে মানের সঙ্গে।
সন্ধ্যায় মায়ানমার আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রেসিডেন্ট থিন সিনের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
[b]ঢাকা, ৩ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]