“নিখোঁজের খবরেও আশা ছিল। হয়তো নোমান ভাইয়া ফিরে আসবে। কিন্তু সকাল ১১টায় নিশ্চিত খবর এলো ভাইয়া আর বেঁচে নেই। বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। ভাইয়ার মৃত্যুর খবরে আন্টি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মূর্ছা যাচ্ছেন বারবার। কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। কিভাবে স্বান্তনা দেবো আন্টি আর চাচাকে।”
মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে কথাগুলো বলেন সেন্টমার্টিন সৈকতে ডুবে মারা যাওয়া শাহরিয়ার ইসলাম নোমানের চাচাতো ভাই রাকিব হাসান তমাল।
তমাল জানান, “নোমান ভাইয়া ভালো সাঁতার জানতো না। বন্ধুরা পানিতে সাঁতার কাটছিল। আর ভাইয়া বন্ধুদের ছবি তুলছিল। অন্যদের সাথে কথা বলে জেনেছি, একই এলাকার গোলাম রহিম নামে অপর বন্ধুকে জোয়ার-ভাটার টানে পানিতে ডুবে যেতে দেখে নোমান ভাইয়া পানিতে লাফিয়ে পড়েছিলেন। বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও মারা গেলেন। বন্ধুও মারা গেলো।”
কক্সবাজারের টেকনাফে সেন্টমার্টিন সৈকতে নিখোঁজ থাকা আহসান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের ৪ ছাত্র নিখোঁজের ঘটনায় সর্বশেষ খবর অনুযায়ী দুই ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ৪ ছাত্রের মধ্যে শাহরিয়ার ইসলাম নোমান একজন। অপরজন হলেন এসএম গোলাম রহিম (বাপ্পী)। মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ওই দুই ছাত্রের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।
শাহরিয়ার ইসলাম নোমানের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায়। নোমানের বাবা নজরুল ইসলাম মুক্তাগাছা উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা।
নোমানের লাশ উদ্ধার হওয়ার পর চাচাতো ভাই রাকিব হাসান তমাল জানান, ঢাকার উত্তরা ৭ নাম্বার রোডের ৬-সি ব্লকের মিজান চাচার(অপর চাচা) বাসায় থেকে পড়াশুনা করতেন নোমান।
তমাল জানান, নোমান ভাইয়া আর বোন তুহিন আপু মিলে চাচার সংসার। তুহিন আপু দ্বাদশ শ্রেনীতে পড়ছে। নোমান ভাইয়া খুবই মেধাবি ছিল। নজরুল চাচার(নোমানের বাবা) স্বপ্ন ছিল নোমানকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বানাবে। পড়াশুনা শেষের দিকে। কিন্তু হঠাৎ দমকা হাওয়া এসে যে সব এলোমেলো করে দেবে ভাবতেও পারছি না।
তমাল জানান, নজরুল চাচার কিছু দিন আগে হার্টে ব্লক হয়ে যাওয়ায় হার্টে অপারেশন করে রিং পড়ানো হয়েছে। চাচা এখনো সুস্থ নন। আন্টিও অসুস্থ। তার হাই ব্লাড প্রেসার। নোমান ভাইয়ার মৃত্যুর খবরে চাচা ও আন্টি দু;জনেই এখন অসুস্থ। তুহিন আপু বাক রুদ্ধ। কোনো কথা বলছে না।
তমাল জানান, নোমানের লাশ আনতে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল অভিমুখে রওয়ানা দিয়েছেন চাচা মিজানুর রহমান।
এব্যাপারে নোমানের চাচা মিজানুর রহমানের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি টাইম নিউজবিডিকে জানান, নোমানের সাথে আমার বন্ধুর মতো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আমাদের ছেড়ে এভাবে অসময়ে নোমান যে চলে যেতে পারে তা এক সেকেন্ডের জন্যও ভাবতে পারছি না। ভাতিজার মৃত্যুর খবরে ভাই-ভাবি অসু্স্থ। একথা বলতে বলতে গলা ভাড়ি হয়ে আসে তাঁর। আর কোনো কথা বলতে পারছিলেন না। শুধু বললেন, ‘দোয়া রাখবেন যেন আল্লাহ ভাতিজা নোমানকে জান্নাতবাসী করেন।’
[b]ঢাকা, জেইউ, ১৬ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এনএস[/b]